লৌহজংয়ে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

drugsশেখ সাইদুর রহমান টুটুল: লৌহজং উপজেলার মাওয়া, গোয়ালী মান্দ্রা, খড়িয়া সহ উপজেলার ৪০টি স্পটে অর্ধ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী রীতিমত মাদক কেনা বেচা করছে। অভিযোগ রয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতর ও পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়েই এই ব্যবসা চলছে।

এসব মাদকের আস্তানা ছাড়াও এখন উপজেলার যে কোন এলাকাতেই হাত বাড়ালে হাতের নাগালেই মিলছে মাদক। এতে উঠতি বয়সের যুবক, স্কুল, কলেজ গামী ছাত্ররা অতি সহজেই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এলাকায় সামাজিক অবস্থার অবক্ষয় হচ্ছে। বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, রাহজানি, ইভটিজিং ও ছিনতাইয়ের মত ঘটনা। সরিষার ভিতরে ভেজাল থাকলে যেমন ভুত তাড়ানোর কোন কাজে আসেনা, ঠিক তেমনি মাদক বিক্রেতা ও সেবন কারীদের সাথে পুলিশের সখ্যতা থাকায় মাদক নিয়ন্ত্রনে আসছে না এবং তাদের ম্যানেজ করেই চলছে এলাকায় রমরমা মাদক বানিজ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লৌহজংয়ের মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের একাধিক সুত্র জানায়, এবং খোদ মাদক বিক্রেতাদের সাথে আলাপ কালে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। যারা রক্ষক তারাই এত দিন ভক্ষনের দায়িত্ব পালন করেছেন লোক চোখের আড়ালে।

অভিযোগ রয়েছে লৌহজং থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) যিনি এই থানায় এক সময়ের মুন্সি, পরে এএসআই এখন বর্তমানে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে বহাল ও একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেও এর পুর্বে আরেক বার এই থানায় একই পদে এক বছর কর্মরত ছিলেন এছাড়াও থানার দু’জন এসআই, দু’জন এএসআই মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তারা মাসোয়ারা নেওয়ার বিনীময়ে মাদক ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছেন। ফলে মাদক বিক্রির ওই স্পট গুলোতে ক্রেতা – বিক্রেতাদের ধরতে পুলিশ অভিযানে বের হলেও তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুর্ব থেকেই সাবধান করে দেয় থানা থেকে।

অভিযানের নামে দৌড়ঝাপ ছাড়া আর কিছুই ফল হয় না। মাঝে মধ্যে কয়েকটা ফেনসিডিল আর কয়েক পিছ ইয়াবা সহ দু’চার জন চুনোপুটি মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ বাহবা নেয়। পরে আইনের ফাকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবার তারা মাদক আমদানিতে লিপ্ত হয়।

সুত্র আরো জানায়, মাওয়া ঘাটে প্রতিদিন শুধু খুচরাই ১০ হাজার পিছ ইয়াবা, সাড়ে ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল ও দেড় কেজি গাজা বিক্রি হয় আর পাইকারী প্রতিদিন ৫০ হাজার পিছ ইয়াবা ও ২০ হাজার বোতল ফেনসিডিল লেনদেন হচ্ছে। যার মুল্য প্রায় দশ লাখ টাকার মত। মাসে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার মাদক বেচা বিক্রি হচ্ছে এই ৪০ টি স্পটে। আর প্রতিমাসে পুলিশ এখান থেকে মাসোয়ারা নেয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা।

এ ছাড়া সোম ও বুধবার একটি বড় ধরনের মাদকের চালান মাওয়া ঘাট হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মাদারীপুর, শিবচর, কাঠালবাড়ি ও শরিয়তপুর এলাকায় যায় বলে জানাযায়।

তবে নতুন আসা লৌহজং থানার ওসি মোঃ তোপাজ্জল হোসেন কিছু কিছু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে, আগের মত প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে না তবে এর প্রবনতা কমেনি।

তিনি আরো জানান, আমি মাদকের সাথে একরকম জেহাদ ঘোষনা করেছি। এই থানায় জয়েন্ট করার পর সব অফিসারদের নিয়ে সভা করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মাদকের সাথে কোন আপস নেই, আগে পরে যদি কেউ কিছু করে থাকেন সেটা ভুলে গিয়ে নিজেকে সাবধান করেন তানা হলে নিজের ভুলের প্রাশ্চির্ত নিজেই করবেন। থানায় দু’চারজন অফিসারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমি খতিয়ে দেখছি তারা অভিযুক্ত হলে ব্যবস্থা নিব। তবে খবর নিয়ে জানাযায়, লৌহজং থানায় অন্যান্য মামলার চেয়ে মাদকের মামলাই বেশি।

এখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১০ টি মাদকের মামলা থাকে। ৮ মাসে থানায় ৭৯টি মাদকের মামলা হয়েছে তবে এর মধ্যে বড় রকমের ধরা পরা মাদক চালানের বেশির ভাগই র‌্যাব ও ডিবির হাতে ধরা তারাই হচ্ছে মামলার বাদি আর বাকি সব ছোট চালান পুলিশের ধরা তাও আবার উপর থেকে চাপ পড়ার কারনে বলে জানাযায়।

এ দিকে একটি সুত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে লৌহজং থানার উপ-পরিদর্শক সহ কজন দারোগার সখ্যতার বিষয়টি প্রশাসনের উপড় মহল পর্যন্ত জেনে যাওয়ায় বর্তমান ওসি কে তার পদ থেকে সরাতে উঠেপরে লেগেছে এই চক্রটি। এ ছাড়া বিভিন্ন মহলে এই ওসির বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাপোষ্ট

Comments are closed.