মুন্সিগঞ্জে চলছে অবিনব কায়দায় নারী পাচার!

naripacharমুন্সিগঞ্জে চলছে অবিনব কায়দায় নারী পাচার! এমন একটি ঘটনার সন্ধান পাওয়া গেলেও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় তাদেরকে আটক করতে সমর্থ হয়নি পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে পঞ্চসার এ আর ক্লিনিকের ৪ তলায় এমন নারী পাচারকারী ব্যবসায়ী মহিলার কাছে কমিশনের টাকা নিতে আসে নারায়নগঞ্জ ২নং বাবুরাইলের ফটিক চানের ছেলে পারভেজ (২৭)। তার দাবী তার স্ত্রীকে বিউটি অরফে রহিমা নামের মহিলা ভারতে পাঁচার করে দিয়েছে। তার স্ত্রীকে উদ্ধার করার জন্যই পারভেজের আগমন মুন্সিগঞ্জে। পারভেজ জানায়, তার স্ত্রীর খোজেই আসছে সে। নারী পাচারকারী রহিমা অরফে বিউটি জানান, পারভেজ ফাহিমাকে বিয়ে করেনি মিথ্যা বলছে। নারায়নগঞ্জ থেকে আগত পারভেজ যেমন মিথ্যা বলছে তেমনটি আবার বিউটি অরফে রহিমাও মিথ্যা বলছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, মূলত পারভেজ ফাহিমাকে পাচার করার উদ্দেশ্যেই মুন্সিগঞ্জে বিউটি অরফে রহিমার কাছে নিয়ে আসে। কিছুদিন স্বামী স্ত্রী রুপে ব্যবহার করে ভারতে পাচার করে দেয় রহিমা। আর নারীর দালাল পারভেজ তার কমিশনের টাকা নিতে আসে এয়ারক্লিনিকের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া বিউটি অরফে রহিমার বাসায়। এখানে টাকা লেনদেন নিয়ে সমস্যা হওয়ায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের এনে পারভেজকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে মোবাইলে স্বীকারোক্তি রেখে দেয়।

রাত দশটার দিকে আমার মোবাইলে ঘটনাস্থল থেকে একজন ফোন দিয়ে জানায় যে নারী পাচারকারী সদস্যসহ ৪জনকে আটকিয়ে রেখেছে স্থানীয় লোকজন। পুলিশকে ফোন দেয়া হয় চোর আটকিয়ে রাখা হয়েছে বলে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। সকল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরাম্যানগণ ওখানে উপসি’ত হন। এস.আই ফজলু ঘটনাস’লে পৌছলেই ঘটনা উল্টো দিকে যেতে থাকে। ঘটনার সাথে জড়িত নারী ও পুরুষদের থানায় না এনে ওখানে তিনি দরবার বসান মিমাংসার জন্য। বিউটি ওরফে রহিমা ও পারভেজকে জেরা করে এস.আই বুঝতে পাওে যে, এরা নারী পাচারকারী। কিন’ স্ত্রী দাবীদার পারভেজ গণপিটুনি খেয়েও যখন মামলা করতে রাজী নন তখন উপস্থিত সকলে বুঝে ফেলেছে যে পারভেজ হলো নারী পাচারকারী দলের দালাল।

বিউটি জানান, অনেক দিন থেকেই পারভেজ তার বাসায় আসা যাওয়া কওে কিন’ ফাহিমা তার স্ত্রী নন। তাদেরকে উপসি’ত সকলে পতিতার ব্যবসা করে বললেও কোন প্রতিবাদ করেনি বিউটি। বিউটি জানান তার বাড়ী সিপাহী পাড়াতে গ্যাসের অভাবে পঞ্চসার এয়ারক্লিনিকে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তার স্বামী আলমগীর সৌদি প্রবাসী। বিউটির ঘরে আরো একটি মেয়ে রয়েছে সুমা (১৭) নামে। সুমা সিপাহাী পাড়ার দালালপাড়ার শহীদুল ইসলামের মেয়ে। হয়ত একদিন সুমাও ভারতে পাঁচার হয়ে যাবে এমনটিই আশংকা করছেন উপস্থিত অনেকে। উপসি’ত অনেকেই বলেছেন যে পারভেজ নারী পাচারকারী দলের দালাল মহিলা পাচারকারী।

ক্রাইমবার্তা

Comments are closed.