পদ্মায় নাব্য সঙ্কট, ডুবোচর : চার পয়েন্টে ড্রেজিং চলছে

mawaaaaমাওয়া-কাওড়াকান্দিতে এবার নাব্য সঙ্কট ও ফেরির অভাবে পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ফেরিগুলো ডুবোচরে আটকে যাওয়ায় ধারণক্ষমতার চেয়ে কম যানবাহন নিয়ে চলছে। তার পরও রেহায় নেই। ফেরি রুটের কয়েকটি স্থানে চ্যানেল সরু হওয়ায় পাশাপাশি দু’ফেরি চলতে পারছে না। অতিক্রম করতে না পারায় ফেরি চলছে ওয়ানওয়েতে। একটি অতিক্রম করার জন্য অপর ফেরিকে নদীতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। উজানের পানি দ্রুত সরতে থাকায় পলি জমে ডুবোচর সৃষ্টি হয়ে দেশের প্রধান এই ফেরি সার্ভিস আবার হুমকির মুখে পড়েছে।

একদিকে পানি কমছে আরেকদিকে পলি জমা হচ্ছে। অবস্থা দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। সাতটি ড্রেজার চার পয়েন্টে এই পলি অপসারণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আসন্ন ঈদ ও পুজোয় ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা চরম আকার ধারণ করতে পারে। এদিকে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনকে মেরামতের জন্য শনিবার নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। এই ডকে টানা ফেরি ‘রামশ্রী’র মেরামত চলছে। এছাড়া মাওয়ার ভ্রাম্যমাণ ডকে মেরামত চলছে টানা ফেরি ‘টাপলু’।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার শেখর চন্দ্র রায় জানান, তিনটি ফেরি মেরামতে থাকায় দু’টি রো রো ফেরিসহ ১৪ ফেরি দিয়ে চলছে এই ফেরি সার্ভিস। এখন চলছে রো রো ফেরি শাহ আলী ও আমানত শাহ্। টানা ফেরি রায়পুরা, রাণীগঞ্জ, রাণীক্ষেত, লেন্টিং ও থোবাল। কেটাই ফেরি কাকলী, করবী, কেতকী ও কলমলতা। মিডিয়াম ফেরি ঢাকা ও ফরিদপুর এবং ছোট ফেরি কর্ণফুলী। নাব্য সঙ্কট ও রো রো ফেরির অভাবে তাই দু’পারে পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন বাড়ছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় শনিবার দু’পারে পণ্যবাহী ট্রাকসহ দেড় শ’ যান পারাপারে অপেক্ষায় ছিল। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা না গেলে আসন্ন ঈদ ও পুজোয় ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা চরম আকার ধারণ করতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মোঃ সুলতান আহম্মেদ খান জানান, লৌহজং টার্নিংয়ের আগে মাঝনদী থেকে কাওড়াকান্দি পর্যন্ত ফেরি চ্যানেলের ২৩ হাজার ফুট পর্যন্ত এলাকায় সমস্যা রয়েছে। তবে আপতত ১২ হাজার ফুট এলাকায় বেশি সমস্যা। বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো” সুলতান আহম্মেদ খান জানান, এবার মূল নদীর মাঝে ডুবোচর দেখা দিয়েছে। এতেই সমস্যা বেশি হচ্ছে। তাই আগেভাগে গত ১৭ আগস্ট থেকে ড্রেজিং শুরু করা হয়েছে। এদিকে ঘন ঘন ফেরি সঙ্কটের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দুর্ভোগ ছাড়াও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.