পশ্চিম মুক্তারপুরে ব্যাংক না থাকায় বাণিজ্যের প্রসার ব্যাহত হচ্ছে

logo munshigonjমুন্সীগঞ্জের শিল্পনগরী পশ্চিম মুক্তারপুরে কোন ব্যাংক না থাকায় শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা পড়েছে নানা বিড়ম্বনায়। এছাড়া এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক প্রসার ব্যাহত হচ্ছে। টঙ্গীবাড়ি হিমাগার, মেট্রোসেম সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, প্রিমিয়ার সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, আমিরাত সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এশিয়ান টেক্সটাইল মিলস, মোল্লা সল্ট ফ্যাক্টরি, আকিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি, বিক্রমপুর পটেটো ফ্ল্যাক্স ফ্যাক্টরিসহ কিছু বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, হিমাগার ও শিপইয়ার্ডসহ এখানে শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এছাড়া এলাকার বিপুলসংখ্যক অধিবাসী ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত থাকায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে।

হিমাগার থাকায় এই অঞ্চলের উৎপাদিত আলু বেচা-কেনায় কৃষক ক্ষুদ্র ও বড় ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা আদান-প্রদান করতে হচ্ছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়, কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদিত পণ্য রফতানি ও বাজারজাত, কর্মচারী বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যাংকের অভাবে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। ব্যাংক না থাকায় পে অর্ডার/ ডিডি/ টিটি ব্যতীত নগদ টাকা বহন করে আনতে হচ্ছে। বিদ্যুত, গ্যাস ও ফোন বিল পরিশোধেও সমস্যা হচ্ছে; যা এই আধুনিক ও প্রযুক্তির যুগে কাম্য নয়।

সম্প্রতি দু’টি বেসরকারী ব্যাংকের এটিএম বুথ স্থাপন হলেও পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক না থাকায় সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাচীন জনপদ মুন্সীগঞ্জ জেলার এই অংশ এখন শিল্পনগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিপুল শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বৈদেশিক রেমিটেন্স থাকা সত্ত্বেও কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপিত হয়নি। টঙ্গীবাড়ি হিমাগারের মালিক আলহাজ আবু সাঈদ জানান, ওই অঞ্চলের শিল্পপতি ব্যবসায়ী আমানতকারীদের অতি ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে মুন্সীগঞ্জ প্রান্তে, নারায়ণগঞ্জ কিংবা ঢাকা গিয়ে কোটি কোটি টাকার লেন-দেন করতে হচ্ছে; যা ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ।

২০১২ সালের ২৮ নবেম্বর স্থানীয় সাংসদ এম ইদ্রিস আলী জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত বরাবর একটি ডিও লেটারে সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন-পশ্চিম মুক্তারপুরে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের একটি শাখা খোলা হলে সঞ্চয় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। সেবা ছাড়াও ব্যাংক যথেষ্ট মুনাফা অর্জন করতে পারবে। এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী, প্রবাসী সকলে উপকৃত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য আরও প্রসারের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস বলেছেন, পশ্চিম মুক্তারপুরে ব্যাংক না থাকায় মালিকের পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিকও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্ভাবনা অনুযায়ী এই অঞ্চলের প্রসার ব্যাহত হচ্ছে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.