মাঠে এখন কৃষকের ব্যস্ততা : নেমে গেছে বন্যার পানি

flood4848জেলায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এখন শুরু হয়েছে কৃষকের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। বীজতলা নিয়ে কৃষক এখন মহাব্যস্ত। জেলার পঞ্চসার, দশকানি, ভট্টাচার্যেরবাগ, রামপাল, সুখবাসপুর, হাতিমারা, জোড়ারদেউল, পানাম, পাইট্টালপাড়া, রামেরগাঁও, দালালপাড়া, ধলাগাঁও, রামশিং, বজ্রযোগিনী, পাইকপাড়া গ্রামের উঁচু জমিগুলোতে এখন কফির বীজতলা তৈরি নিয়ে কৃষকের ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। এসব এলাকায় যেদিকে চোখ যাবে সেদিকেই এখন বীজতলা নিয়ে কৃষকের সংগ্রাম দেখা যাবে।

রামপালের কৃষক আলম জানান, এবারের বন্যায় শুধু মুন্সীগঞ্জ নয় অনেক অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এসব পুষিয়ে নিতেই এ বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এই বীজ শুধু মুন্সীগঞ্জেই নয়, দেশের অনেক জেলাতেই যাচ্ছে। বন্যার কারণে বিভন্ন অঞ্চলের ফসল ও বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। তাই এই বীজের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জের কপির চারা দেশসেরা। চাহিদা মেটাতে এ অঞ্চলের কৃষি জমিগুলোতে এবার প্রায় দ্বিগুণ বীজতলা তৈরি করছে। কৃষক আলমগীর হোসেন বীজ তলায় কাজ করতে করতে বলেন, আবহাওয়া মাটি এবং কৃষকের দক্ষতার জন্য এখানে চারা উৎপাদন সহজ। আবার বীজের মান ভাল।

কফিচারা চারাগুলো স্পর্শ কাতর হওয়ায় অনেক এলাকাতেই উৎপাদন করতে পারছে না। সে কারণে যুগযুগ ধরে এখানে কফি চারা উৎপাদন হয়। এই চারাগুলো রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বহু অঞ্চলে যাচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা সম্পসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কফির চারা মুন্সীগঞ্জ স্পেশাল’। এই চারার সঙ্গে অন্য জেলার চারার তুলনা হয় না। এখানকার কৃষক এ চারা উৎপাদনে বিশেষ পারদর্শী। অল্প খরচে, কম সার ও ওষুধ ব্যবহার করে এত সবল চারা উৎপাদন সত্যিই বিস্ময়কর। কৃষকদের স্থানীয় প্রযুক্তি আামাদের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে হার মানিয়েছে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.