ঈদ না আসতেই সেই পুরনো কিস্সা!

cowsঅধিক মুনাফার লোভে নিয়মকানুনের বালাই না মেনেই গরু মোটাতাজাকরণ করছে রাজধানীর আশপাশের এলাকা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের গরু ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত পরিমাণ সবজু ঘাস না দিয়ে শুধু রাসায়নিক সার ও কৃত্রিম খাবার খাওয়ানো হচ্ছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ‘বিফ ফ্যাটেনিক’ প্রকল্পগুলোতে। স্থানীয় পশু পালন অফিস এ বিষয়ে কোনো খোঁজখবরও রাখছে না। এতে গরুর শরীরে জমে থাকা বিষক্রিয়াযুক্ত মাংস খেয়ে কিডনি ও লেবার নষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্তের শিকার হচ্ছে এবং হবে সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, ঢাকাসহ সারাদেশে এ উপলক্ষে অতিরিক্ত মুনাফালোভী গরু ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিকর বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। গরু মোটাতাজা করার ওষুধ ডেঙ্গামেথাথন খাওয়ানো গরুর মাংস খেলে মানুষের লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে। এ ব্যাপারে আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রতিটি গরুর হাটে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে গরুর রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পশু চিকিসৎরা।

যদি কোনো গরুর রক্ত পরীক্ষায় বিষাক্ত কিছু ধরা পড়ে তাহলে সেই গরু সিল মেরে বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে মিডিয়ায় এখনই ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিলে হয়তোবা কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন পশু চিকিসৎরা।

পশু চিকিসৎরা জানান, প্রতিবছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণের এ প্রতিযোগিতায় নামে গরু ব্যবসায়ি এবং কৃষকরা। আর এসব বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে গিয়ে মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া তারা। ডেক্সামেথাসন বা ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন অতিরিক্ত মাত্রায় দিলে গরুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ায় শরীর থেকে পানি বের হতে পারে না। এ কারণে শোষিত হয়ে পানি সরাসরি গরুর মাংসে চলে যায়। ফলে গরুকে মোটা দেখায়।
cows
পশু চিকিসৎরা আরো জানান, ডেঙ্গামেথাথন জাতীয় ওষুধ পশুকে খাওয়ালে দ্রুত মোটাতাজা হয়। তবে এই মোটাতাজা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। তারা আরো জানান, বিষাক্ত হরমোন, ইনজেকশন ও রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ করে মোটাতাজা করছেন। এসব গরু ঈদের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাই না করা হলে মরে যায়। কারণ, গরুর শরীরের পরতে পরতে ঢুকিয়ে দেয়া হয় স্টেরয়েড, হরমোন কিংবা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর সব রাসায়নিক দ্রব্য। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, ফরিদপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে ক্ষতিকর ওইসব ওষুধ ও রাসায়নিক সেবনের মাধ্যমে এখন গরু মোটাতাজা চলছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. ফরহাদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, গরু মোটাতাজা করণে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে পাম ট্যাবলেট, স্টেরয়েড ও ডেক্সামেথাসনের মতো ভয়ানক ক্ষতিকারক ওষুধ। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এরই মধ্যে এই অসাধু প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেশি লাভের আশায় অনেক খামারি পশুচিকিৎসকদের পরামর্শ না মেনেই গরুকে স্টেরয়েড দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. মাহবুব আলী খান বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ কাজে স্টেরয়েড আইটেমের ডেক্সামেথাসন গ্রুপের বিভিন্ন ইনজেকশন প্রয়োগ হয়ে থাকে। এছাড়া ইউরিয়া খাওয়ানো হয়। ফলে যেসব গরুকে পাম ট্যবলেট, ডেক্সামেথাসন ও স্টেরয়েড খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়, সেগুলোর মাংস খেলেও মানবদেহে মরণঘাতি সব রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারী ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার রাজধানীর প্রতিটি গরুর হাটে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে গরুর রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদি কোনো গরুর রক্ত পরীক্ষায় বিষাক্ত কিছু ধরা পড়ে, তাহলে সেই গরু সিল মেরে বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেসটিনি

Comments are closed.