পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ পেল সিনোহাইড্রো

padma5পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসন কাজের ঠিকাদার হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন’কে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশী টাকায় এবং ৭০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, পদ্মা সেতুর নদী শাসন কাজের ঠিকাদার হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন’কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের কোনো অভিযোগ আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কোনো অভিযোগ নেই। বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখেছি, এটি কালো তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।’

এদিকে সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ বিলম্বিত হওয়া প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, আমাদের কারণেই দেরি হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকায় এগুলো সরাতে সময় লেগেছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ হলে চুক্তি করা হবে এবং এরপর কাজ শুরু হবে। এ জন্য আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আর্থিক প্রস্তাবে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে সিনোহাইড্রো সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়। সিনোহাইড্রো যে দর দিয়েছে সেটা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম।

তিনি জানান, অপর যে দুটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রস্তাবে অংশ নিয়েছিল সে প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে- বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠান ‘জান ডি নাল এনভি ট্রাগেল’ (১৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা) এবং কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ‘হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ (১২ হাজার ১২২ কোটি টাকা)।

যুগ্ম সচিব জানান, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার ক্রয় সংক্রান্ত ৫টি প্রস্তাব, চট্টগ্রাম ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২নং ইউনিটের ওভারহলিং কাজের স্পেয়ার পার্টস এবং সেবা ক্রয় প্রস্তাব, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘জরুরি ২০০৭ ঘূর্ণিঝড় পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রকল্পে’র ডিজাইন ও সুপারভিশন পরামর্শক সেবার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব, জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগ, উত্তরায় স্বল্প ও মধ্য আয়ের লোকের জন্য ১৬তলাবিশিষ্ট চারটি ভবনের বিভিন্ন সেবামূলক কাজের ক্রয় প্রস্তাব এবং চট্টগ্রামের মুরাদপুর ২নং গেট ও জিইসি জংশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্পেয়ার পার্টস এবং সেবা ক্রয়ে ব্যয় হবে ৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ কাজটি পেয়েছে ডং ফ্যাং। জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগে ব্যয় হবে ৯১ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের মুরাদপুর ২নং গেট ও জিইসি জংশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে ব্যয় হবে ৪৫৪ কোটি ৬৭ লাথ টাকা। আর এ কাজটি পেয়েছে যৌথভাবে ম্যাক্স-র‌্যাঙ্কেন।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.