লৌহজংয়ের পদ্মার চরে জাপানি স্কুল

school padmar charমো. মাসুদ খান: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঝাউটিয়ার পদ্মার চরে অবহেলিত দরিদ্র শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেছে জাপানি অলাভজনক সংস্থা পিইউএস। সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কেইকো আইওয়াশিতা বিদ্যালয়টির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে গত শুক্রবার তিনি ঝাউটিয়ার চরে গিয়ে বিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নির্বাচন করেন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সোমবার বিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। নির্মিতব্য বিদ্যালয়টির জন্য জমি দিয়েছেন সাবেক কোরহাটি বর্তমানে হলদিয়া নিবাসী শেখ মারফত আলী মেম্বারের ছেলে এস এম আল সাম।

দীর্ঘদিন ধরে লৌহজং উপজেলার পদ্মার চরের বিপুল পরিমাণ শিশু স্কুলের অভাবে শিক্ষাবঞ্চিত ছিল। ১৯৯৩ সালে পদ্মার ভাঙনের পর তিন বছরের মাথায় নতুন করে চর জেগে ওঠে। সেই থেকে এ এলাকার প্রায় ২০টি গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই। প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে লৌহজং সদরসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে যেতে হতো এ এলাকার শিক্ষার্থীদের। সে ক্ষেত্রে পথে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হতো তাদের। এসব জানতে পেরে ঝাউটিয়ার চরে স্কুল বানাতে আগ্রহ দেখায় জাপানি ওই সংস্থাটি।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, গ্রামগুলোতে আরো স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জাপানের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষানুরাগী ও বিত্তবানদের এখানে আরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ঝাউটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, সকালে খেয়া পার হয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়। এ সময় বেশ ভিড় পড়ে যায়। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই খেয়া নৌকাও কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। চর জেগে ওঠা এলাকায় অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি স্কুলও ছিল। ভাঙনের কারণে এগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চর জেগে ওঠার পর অনেকে আবার বসতি গড়ে তুলেছে। কিন্তু স্কুল প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় ছেলেমেয়েরা শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছিল।

school padmar char
লৌহজংয়ের পদ্মার চরে জাপানের সহযোগিতায় নির্মিতব্য স্কুলের নির্মাণকাজে সহায়তা করছে শিশুরাও।

কেইকো আইওয়াশিতা বলেন, ‘বাংলাদেশের ভাগ্যবিড়ম্বিত লোকদের জন্য আমরা কাজ করছি। পদ্মার চরের দরিদ্র ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য এখানে পর্যাপ্ত স্কুল নেই। এ জন্য তারা পিছিয়ে পড়ছে। আমরা তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতেই আমরা কাজ করছি।’

কেইকো আইওয়াশিতা জানান, পাকা মেঝে আর টিন-কাঠ দিয়ে বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘এল’ আকারের ছয় কক্ষের বিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। সে ক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। তখন জাপান থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে বিদ্যালয়টি উদ্বোধন করবে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে সিলেটের দুর্গম অঞ্চলে পিইউএস আরো ছয়টি স্কুল নির্মাণ করেছে। ঝাউটিয়ার পদ্মার চর ঘুরে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল হলেও এর প্রাকৃতির সৌন্দর্য তাঁকে অভিভূত করেছে। এখানকার লোকজনের ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ। পরবর্তী সময়ে এখানে আরো কিছু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার জানান, চরাঞ্চলে সরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের কণ্ঠ

Comments are closed.