ডাক্তারসহ চারজনকে পুলিশে দিলেন এমপি সুকুমার

crime3সিরাজদিখানে অভিযান : অবৈধ ওষুধ জব্দ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ ওষুধ জব্দ এবং ডাক্তারসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। এ সময় একটি ফার্মেসি সিল করে দেওয়া হয়েছে। আটক চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এমপি সুকুমার রঞ্জন এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি অভিযোগ পান, সিরাজদিখান রশুনীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফার্মেসিগুলোয় অবৈধ ওষুধ বিক্রি করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চারটি এম্পোল ইনজেকশনসহ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. এম এ মতিন স্বপনকে আটক করেন। এরপর এলাকার মালা ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে আরো চারটি এম্পোল ইনজেকশনসহ ওই ফার্মেসির হরিপদ মণ্ডলের ছেলে রাজেশ মণ্ডল (২৬), সুভাষ চন্দ্র দাসের ছেলে তুর্য দাস (২০) ও বাদল খানের ছেলে হীরা খানকে (২৬) আটক করেন। পরে তাঁদের সিরাজদিখান থানায় পাঠানো হয়।

মালা ফার্মেসির মালিক রাজেশ মণ্ডল বলেন, ‘ডা. এম এ মতিন স্বপন আমাদের কাছে ইংল্যান্ডের এই অবৈধ ঠবহপড়সুপরহ ওহলধপঃরড়হ ঢাকা থেকে কম দামে এনে বেশি দামে বিক্রি করেন। একটি প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ বিক্রি করার জন্য আমরা উনার কাছ থেকে এই ওষুধ কম দামে (অন্য এজেন্টের তুলনায়) কিনে আনি।’

ডা. এম এ মতিন স্বপন বলেন, ‘এটি একটি এন্টিবায়োটিক। এটা আমরা লিখতে পারি। এটা অবৈধ কি না তা আমার জানা নেই।’ ওষুধ নিতে আসা সালমা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট কর্মরত। শুনেছি একজন মেডিক্যাল অফিসার এখানে আছেন। আমি তাঁকে কখনো দেখিনি।’ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসংলগ্ন সিরাজদিখান বাজারের কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ওই দুজন এক ঘণ্টার বেশি কোনোদিনই অফিস করেন না।

গতকাল এমপি সুকুমার নিজে ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। এ ছাড়া ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাধারণ ওষুধও দেওয়া হয় না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে লতব্দী চরের আব্দুল লতিফ, আজগর আলী, মেছের আলীসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার ওষুধের জন্য কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু ডা. মতিন ও ফার্মাসিস্ট কেন্দ্রে এই সাধারণ ওষুধও নেই বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফার্মাসিস্টকে পাওয়া যায়নি। সিরাজদিখান থানার ওসি (প্রশাসন) আবুল বাসার অবৈধ ওষুধ জব্দ ও ডাক্তারসহ চারজনকে আটকের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.