বি. চৌধুরী-কাদের সিদ্দিকীকে বাদ রেখে ড. কামালের জোট

kamal jotক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাংশ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বাম-প্রগতিশীলদের নিয়ে নতুন জোট করতে যাচ্ছেন এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে এবারের জোট গঠন প্রচেষ্টায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে।

জোট গঠনে সম্পৃক্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে বুধবার দুপুরে জোটের প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকেই জোট গঠনে কোন কোন দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও জোটের রূপরেখা কি হবে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া যোগাযোগ-জোটের রূপরেখা প্রণয়ণের জন্য ৫ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর আহমেদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজুলর রশিদ ফিরোজ, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা আ ও ম শফিকউল্লাহ ও নাগরিক ঐক্যের নেতা আব্দুল কাদের।

বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেন, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব প্রমুখ।
kamal jot
জানা গেছে, ড. কামাল হোসেনের এবারের প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ডাকসাইটে কিছু সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের ৯৬ সালের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এ দুইজনই মূলত আওয়ামী লীগের বঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ দুইজন নেতার মধ্যে একজন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বুধবারের বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর দ্য রিপোর্টকে বলেন,‘ দেশ যেভাবে চলছে এভাবে চলতে পারে না। আমরা একটা উদ্যোগ নিচ্ছি। আমি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে বুধবারের বৈঠকে অংশ নিয়েছি।’

ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ আর আপনি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কিভাবে বৈঠকে অংশ নিলেন, জাপা (এরশাদ), জাপা (কাজী জাফর), জাপা (মঞ্জু) এমন ব্র্যাকেটবন্দি আওয়ামী লীগ গঠন হবে নাকি? এমন প্রশ্নের উত্তরে মনসুর বলেন, ‘আমরা একটা উদ্যোগ নিচ্ছি। আমাদের সঙ্গে অনেকেই রয়েছেন। এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছি না। সময় হলেই আপনারা সব জানতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দ্য রিপোর্টকে বলেন,‘ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আওয়ামী লীগের কেউ নন। অনেকেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেছেন কিন্তু দলের কোন ক্ষতি হয়নি। অনেকেই অনেক মলম পার্টি করেছে, কেউ যদি মলম পার্টি করতে চায় তাহলে আমাদের আপত্তি নেই।’

জানা গেছে, এবারের জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় রাখা হচ্ছে না বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা.বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে।

এ বিষয়ে সিপিবির একজন শীর্ষনেতা দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে এ জোট হচ্ছে। বি.চৌধুরী ও কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে।’

জোট গঠনে সম্পৃক্ত একাধিক নেতার দাবি, ঈদের আগে সারাদেশের বিভাগীয় শহরে মতবিনিময় সভা করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে প্রক্রিয়াধীন জোট নেতারা। মতবিনিময় শেষে ঈদের পর ঢাকায় কনভেনশন করে জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে, জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি দল ঈদের আগেই জোটের ঘোষণার পক্ষে।

এ বিষয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাফর আহমেদ দ্য রিপোর্টকে বলেন,‘ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা ঈদের পর দ্বি-দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে বৃহৎ জোটের আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। এখন দেখা যাক কতটুকু করতে পারি।’

সূত্রের দাবি, বুধবারের বৈঠকে গঠিত ৫ সদস্যের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন কমিটির নেতারা শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিপিবির অফিসে বৈঠকে বসবেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। তবে এর আগে সিপিবি ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিজেদের মধ্যে আবারও বৈঠক করবে।

জানা গেছে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এ জোটে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্যসহ দেশের খ্যাতনামা আইনজীবী, শিক্ষক , সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতা-নেত্রীদের।

এ বিষয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বৃহস্পতিবার দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘চমক আছে। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। আমি একজন কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এ পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে ড. কামাল হোসেন ২০০৪ সালে জাতীয় ঐক্য মঞ্চ নামে জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন বি. চৌধুরী ও কাদের সিদ্দিকী।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.