মুন্সিগঞ্জ সদর থানা ওসি শূন্য ॥ আইন শৃংখলার চরম অবনতি

policeইয়ারদৌস হাসান ওসি হওয়ার সম্ভাবনায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ
ওসি শুন্য সদর থানা এক মাস। এই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদে তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাবে। তাই মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদে নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।

এদিকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকমহল চরম হতাশায় ভূগছেন ওসি না থাকায়। অফিসার্স ইনচার্জ হিসেবে সদর থানার দায়িত্ব পালন করে গেছে মো: শহিদুল ইসলাম। তিনি ৩আগষ্ট হেডকোয়ার্টারে সিআইডিতে যোগদান করেন। সেই থেকে অদ্যাবদি মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় আর কোন নতুন ওসি যোগদান করেননি।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় ওসি শূন্য দীর্ঘ দেড় মাস। ওসি তদন্ত ওসি হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে নতুন কোন ওসি এখানে এসে যোগদানও করছে না। তদন্ত ওসি ইয়ারদৌস হাসানের খুটির জোরের তোড়ে এখানে কোন ওসি আসতে চাইলেও আসতে পারছেন না। গুনজন রয়েছে যে এরই মাঝে একজন ওসি যোগদান করতে আসলেও নামাজ পড়ে সেখান থেকেই বিদায় নিতে হয় তাকে।

এ ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ওসি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওসি তদন্ত ইয়ারদৌস হাসান (ভারপ্রাপ্ত ওসি) তার পূর্বের আধিপত্যের মোড়লগিরি করে যাচ্ছেন। ইয়ারদৌস হাসান ওসি হবে শুনে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে চাপা খোভ বিরাজ করছে। অপরদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা ফুলে ফেপে উঠছে ওসি তদন্ত ইয়ারদৌসকে পেয়ে। ফলে মুন্সিগঞ্জে আইন শৃংখলার চরম অবনতির আশংকা করছে বিশিষ্টজনরা। একদিকে জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বিপ্লব তালুকদার মুন্সিগঞ্জে যোগদান করে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন আর অন্যদিকে প্রকাশ্যে দিবালোকে মাদক-ইয়াবা-ও নারী ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠছে ইয়ারদৌসের বদৌলতে।

ইয়ারদৌস হাসান দীর্ঘদিন এখানে সাব ইনস্পেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাদে তার সকল মাদক ব্যবস্থার স্থান, মাদক ব্যবসায়ী, দেহ ব্যবসায়ীদের আস্তানা সম্পর্কে অবগত। তাই অপরাধী চক্রের থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়াও তার জন্য সহজ হয়েছে। অপরদিকে অপরাধচক্রও সক্রিয় হয়ে উঠছে। নিরপরাধ লোকজন ধরে জঙ্গি কানেকশন তৈরী করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও সাংবাদিকদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় যোগদান করার পর থেকে মাদক, অস্ত্র-হত্যাসহ বিপুল পরিমানের টাকার বিনিময়ে মামলা-বাণিজ্য করে যাচ্ছেন প্রকাশ্যে। মামলায় জড়িয়ে দেবার ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। ইয়ারদৌস হাসান ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্ব পাবার পর এক একটা ঘটনা ঘটিয়েই চলেছেন তিনি। তার ভাব এরকম যে তার চেয়ে বড় অফিসার আর নেই। সে যা বলবে, করবে তাই হবে মুন্সিগঞ্জে।

অপরদিকে থানায় জিডি করতে গেলেই টাকা। যদিও থানায় লিখা রয়েছে জিডি করতে টাকা লাগে না। কিন্তু লিখতে ১ থেকে ২শ টাকা জিডি এন্ট্রি করতে ৩শ থেকে ৫০০টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে জিডি হয় না। ফলে মুন্সিগঞ্জ থানায় যারা চাকুরী করতে আসেন তারা আর অন্যত্র যেতে চান না। এখানে উপরি আয় অন্য সব যায়গার চেয়ে তিনগুন। মামলা করতে গেলেতো কথাই নাই টাকার খেলা। বাদী বিবাদী কে কত দিতে পারবে তার উপরই নির্বর করবে মামলার ধরন। এভাবেই চলছে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা।

সদ্য ইয়াবা দিয়ে এক যুবকে আটকের চেষ্টা করায় পুলিশে উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ থানায় মামলাও হয়েছে। এ মামলায় সূতার মিলের ম্যানেজার মাসুদ রানা, তার দুলাভাই সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলামসহ ৪ জনকে এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ১০০-১৫০ জনের নামে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহর উপকণ্ঠের মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় ২শ পিস ইয়াবা দিয়ে মুক্তারপুরস্থ সাওবান ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুদ রানা মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ আটক করে। পরে নিরীহ ম্যানেজার মাসুদ রানাকে আটক করায় স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর পুলিশের গ্রেফতার অভিযান শুরু হলে মুক্তারপুর এলাকা পুরুষশূণ্য হয়ে রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে মুক্তারপুর এলাকার মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপার বিজয় বিপ্লব তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট উবর্ধতন কর্তপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণীর মানুষ।

অন্যদিকে, নিরীহ মাসুদ রানাকে পুলিশ কর্তৃক ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানো ও মামলায় আসামি করার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সূতার মিলের ম্যানেজার মাসুদ রানাকে কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই ইয়াবা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে মাসুদ রানাকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশে সাথে দস্তাদস্তি হয়। এ সময় মাটিতে পড়ে গিয়ে আল-আমিন নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের (ক নং ১৬৭) হাত মচকে যায়।

তবে ইয়াবা দিয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে মুক্তারপুর ফাড়ি ইনচার্জ এস আই মোশারফ হোসেন বলেন, মুক্তারপুর এলাকার প্রয়াত জুলহাস ওরফে জুলা পাগলার ছেলে মাসুদ রানা (৪০)-কে ২শ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। আটকের পরপরই সেখানে থাকা ১০০-১৫০ জন দুস্কৃতকারীরা পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে ফেলে। তারা পুলিশ কনস্টেবল আল-আমিনকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে আটককৃত মাসুদ রানাকে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, মাসুদ রানা একজন চাকরিজীবি এবং সৎ চরিত্রের লোক। মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তারপুরস্থ সাওবান ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ কোম্পানীর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়া এর আগে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় বা অন্য কোথাও তার নামে কোন মামলা মোকদ্দমা বা একটি জিডিও নেই বলে জানান, মাসুদের স্ত্রী সীমা আক্তার। সূত্র মতে, মুক্তারপুরে বিএনপির একটি প্রভাবশালী পরিবারের দ্বন্দ্ব চলছে। বাড়িতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ বিভক্তের কারণে সেখানে পুলিশ দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে নিরীহদের।

তাদের রোষানলে পড়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) ইয়ারদৌস হাসানকে ম্যানেজ করে মুক্তারপুরে কখনো অস্ত্র, কখনো মাদক দিয়ে এ রকম ঘটনা প্রায় ঘটছে। বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত এ পুলিশ অফিসার দ্বিতীয়বারের মতো মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় পোস্টিং নিয়ে নানাভাবে চাঁদাবাজি করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এর আগে শহরের কোর্টগাঁও গ্রামের আওয়ামীলীগ কর্মী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমানের ছোট ভাই ফরহাদ হোসেন আবিরের কাছ থেকে ৫০হাজার টাকা চাঁদা নেয়। পরে আবির এ বিষয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের কাছে ওসি (তদন্ত) ইয়ারদৌস হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে ওই টাকা ওসি ফেরত দেয় বলে আবির জানিয়েছেন। এছাড়া, থানায় মামলা এন্ট্রি, চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেয়া, নিরীহদের মামলায় আসামি করার ভয়সহ নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ওসি ইয়ারদৌস হাসানের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ইয়ারদৌস হাসানের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আসছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ সকল ঘটনার সাথে জড়িত নহে। যারা অভিযোগ করছে তারাই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাশক্ত।

মুন্সিগঞ্জের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সক্রিয় ভূমিকা না রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুলিশ হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আসামী ধরলেই নিম্নে ১০হাজার টাকা আয়ের রমরমা বানজ্যে পরিণত হয়েছে। একেকজন ১০হাজার টাকা করে হলে প্রতিদিন কত টাকা অবৈধ আয় করে সদর থানা পুলিশ তা হিসেব করবেন পাঠক। মুন্সিগঞ্জের সাংবাদিকরাও জোরালো ভূমিকা রাখতে নাপারাকে দায়ী করেছেন অনেকে। ফলে মামলার চার্জশীট থেকে নাম বাদ দেয়া ও মামলায় জড়ানোর কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষলক্ষ টাকা। অনেক সাংবাদিকও তদবির না করলেও টাকা লেনদেনের সময় সামনে থাকেন কিন্তু তারা কোন সংবাদ না লেখারও অভিযোগ রয়েছে।

এর একটি জলন্ত প্রমাণ হলো মুন্সিগঞ্জের উপকন্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করেছে অভিযোগকারী। যার জন্য টাকা নেয়া হলো তার নাম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জসীট) থেকে বাদ দেন নি ওসি (তদন্ত)। নিরপরাধ ব্যাক্তির নাম বাদ না দিয়ে হত্যা মামলায় জড়িত ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে দিলেন সদর থানার ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান।

এ ধরনের আর এক ঘটনা হলো নয়াগাও এলাকার মাস্টার আউয়াল একটি মামলার হুকুমের আসামী তিনি। তার নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেয়ার কথা বলে নয়াগাও এলাকার নাসির মেম্বারের মাধ্যমে ৩০হাজার টাকা নেয়া হয়। কথা অনুযায়ী মামলার চার্জশীট থেকে আউয়াল মাস্টারের নাম বাদ যায়নি। চার্জশীটে দেখা যায় তার নাম রয়ে গেছে।

পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে মামলার আয়ু বলেন আয়ু পরিবর্তন হয়েছে তাই কিছু করার নেই। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার প্রত্যেক দারোগার প্রতিদিন ইনকাম রয়েছে ১০হাজার টাকা। কয়েকদিন আগে জামিনকৃত আসামীর বাসায় হানা দেয় সিভিলে কয়েকজন পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করবে কিন্তু ভিকটিম যখন তার জামিন নামা দেখায় তখন ৫হাজার টাকা দাবী করে। একই দিন মানিকপুরে সিভিলে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে জমি দখল করিয়ে দেওয়ার জন্যে দেখা গেছে।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ওই কর্মকর্তা ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসানকে চার্জসীটের ৪ নম্বর নির্দোষ ব্যাক্তি নুরুল আমিন চোকদার (৫০)-কে মামলা থেকে অব্যাহতি দেবার জন্য তিন পর্বে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা দিয়েছেন। টাকা পাবার পরও মামলা থেকে নুরুল আমিন চোকদারকে অব্যাহতি দেয়নি ওই পুলিশ কর্মকর্তা। অন্যদিকে হত্যা মামলায় জড়িত অন্যতম আসামী নাজমূল হালদারের (৩৫) কাছ থেকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে (চার্জসীট) থেকে অব্যাহতি দিলেন ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান।

সদর উপজেলার রতনপুর এলাকার সাদেকুল ইসলাম হত্যা মামলায় কোন প্রকার জড়িত না থাকার পরও সহজ-সরল ও সাদা মনের মানুষ নুরুল আমিন চোকদারকে চার্জসীট ভুক্ত করায় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ-হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তদন্ত করে নুরুল আমিন চোকদারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে এই মামলা হতে অব্যহতি দেওয়ার কথা বলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরে রওশন আরা আক্তার পাখির নিকট ২ লাখ টাকা দাবী করেন ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান। পরে দাবীকৃত টাকা হতে তিন পর্বে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা স্থানীয় দুই সাংবাধিকের হাত দিয়ে পুলিশের ওই তদন্ত কর্মকর্তার নিকট দেওয়ার পরও রেহাই পেল না নির্দোষ-সাদা মনের মানুষ নুরুল আমিন চোকদার।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পুলিশের ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

সদ্য যোগদানকারী জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বিপ্লব তালুকদার বলেন, আমি সদ্য যোগদান করছি সকল বিষয়ে আমার নলেজে নাই। তবে নতুন ওসি যোগদানের ব্যাপারে সহসাই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

জি-নিউজবিডি২৪

Comments are closed.