পর্যাপ্ত জমি ও অনুমোদন নেই : তবুও একক আবাসন মেলা

munshigonj1বিশাল সাইনবোর্ড টানিয়ে, চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র প্লট বিক্রির নামে নিরীহ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিলেও দেখার কেউ নেই। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি এলাকার আশপাশের কৃষি জমিতে স্বপ্নধারা আবাসন কোম্পানির বেশ কিছু সাইনবোর্ড। কোন অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও এই কোম্পানি কিভাবে রংবেরঙের সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করছে তাই নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন কিংবা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কারো অনুমতি নেই। নেই আবাসন প্রকল্প করার পর্যাপ্ত জমি। তবুও শুধুই প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য আবাসিক হোটেলে একক আবাসন মেলার আয়োজন করেছে। আর এই মেলার নামে নানা রকম বিজ্ঞান প্রচার করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা এক নম্বর গুলশানের ৮ নম্বর রোডের হাউজ নং ১/বি এর গ্রিন স্কয়ারের ষষ্ঠ তলায় একটি ভাড়া অফিসে আবাসন কোম্পানির ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রীনগর উপজেলার স্থানীয় জনসাধারণ প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার বিরুদ্ধে গত ২০১২ সালের ২৯ মার্চ বিক্ষোভ করে। এই সংক্রান্ত সংবাদ জনকণ্ঠে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ হয়। পরে প্রকল্প নামধারী এই কোম্পানির বিশাল সাইনবোর্ডগুলো শ্রীনগর থানার পুলিশ ভেঙ্গে ফেলে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রীনগর উপজেলার উৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা সনজয় চক্রবর্তী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা নুর মহল আশরাফী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাইনবোর্ডটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন।

শ্রীনগরে স্বপ্ন নিয়ে এই কোম্পানির অভিনব প্রতারণা, অনুমোদন ছাড়াই প্লট বিক্রির বাহারি বিজ্ঞাপন নিয়ে মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। শ্রীনগরের ভূমিরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবু নন্দলাল ম-ল জানান, বাপ-দাদার চৌদ্দ পুরুষের ভিটামাটি রক্ষায় সরকারের কার্যকরী উদ্যোগ প্রয়োজন।

অথচ এ ঘটনার দুই বছর পর এ বছরের ২৩, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি, মতিঝিল হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে (মেহিফল হল) প্রতারকরা প্রকাশ্যে আবাসন মেলা করে সাধারণ মানুষের প্রতারণা করে। এছাড়া গত ২৭, ২৮, ২৯ আগস্ট রাজধানীর বংশালস্থ নর্থ সউথ রোডের আল-রাজ্জাক হোটেলে আবাসন মেলার আয়োজন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাব অফিসে যোগাযোগ করে জানা গেছে স্বপ্নধারা নামে কোন প্রতিষ্ঠান তাদের সংগঠন নয়। এই প্রতারকদের প্রতারণার বন্ধ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর আলম জানান, ‘স্বপ্নধারা’ পরিবেশ ছাড়াপত্র গ্রহণতো দূরের কথা আবেদন পর্যন্ত করেনি। তবে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না- এ ব্যাপারে সদুত্তর না দিয়ে বলেন, মাটি ভরাট শুরু করলে ব্যবস্থা নেব।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোমবার বিকেলে জানান, স্বপ্নধারার আবাসন প্রকল্পের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোন কাজই দেখাকে পারেনি। কোনরকম আইনগত ভিত্তি নেই প্রতিষ্ঠানটির। তাই প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ সব বিষয়ে স্বপ্নধারার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জনকন্ঠ

Comments are closed.