পদ্মা সেতুর নাটক এখানেই শেষ নয়!

padma2পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে একধরনের নাটক শুরু হয়েছে। যে নাটকের এখানেই শেষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আর এই মামলার আসামিদের অব্যাহতি দেওয়াতে দুদকের বিশ্বাসযোগ্যতা আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলার আসামিদের দুদক কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়া প্রসঙ্গে দেশের এই বিশিষ্ট দুই নাগরিক শীর্ষ নিউজের কাছে এসব মন্তব্য করেছেন।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে এক ধরণের নাটক শুরু হয়েছে। যে নাটকের এখানেই শেষ নয়। এটাকে কেন্দ্র করে জনমনে অনেক প্রশ্ন ও কৌতুহল সৃষ্টি হবে। যেমন দুদকের নিজস্ব অনুসন্ধানের পরই এই মামলাটি করা হয়েছিল। আবার কাউকে কাউকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

তখন যে অবস্থায় মামলাটি করেছিল দুদক এখন সেই মামলা থেকেই আবার অব্যাহতি দিল। তাই তখনকার অবস্থা ও এখনকার অবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না সেটার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এদিকে আবার একই অভিযোগে কানাডার আদালতেও এই মামলার বিচার চলছে। ঘুষের এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটা তাদের (কানাড) কাছে প্রতিয়মান হয়েছিল বলেই তারা মামলাটি করেছিল। যদি তারা (কানাড) ষড়যন্ত্রের অভিযোগেই মামলা করে থাকে, তাহলে তো এসব ষড়যন্ত্র একহাতে হয়নি! তাই দুদক যদি এই মামলার আসামিদের অব্যাহতি দেয়, অপরদিকে কানাডার আদালত যদি একই অভিযোগে করা মামলার আসামিদের অভিযুক্ত করে, তাহলে জনমনে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।’

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এই প্রশ্নটা উঠবে এই কারণে যে, আমাদের অতীত ইতিহাস এরকম কথাই বলে। যেমন ওই একই দেশ কানাডার আদালতে নাইকোর ঘুষ দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছিল, এই জন্য জরিমানাও দিতে হয়েছিল নাইকোকে। কিন্তু এই অপরাধের সাথে আমাদের দেশের যারা জড়িত ছিল তাদের কিছুই হয়নি। কাজেই আমরা এখন সংশয়ের মধ্যে আছি, যে একই ধরনের কিছু হয় কি-না।’

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক আরো বলেন, তবে দুদকের এই অবস্থাটা সরকারের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করে দিল। তাহলো, বিশ্বব্যাংক সরকারের এই কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। তাই সরকারের এখন উচিত হবে বিশ্বব্যাংকের কাছে এই নাজেহাল করার ব্যাপারে জবাবদিহিতা চাওয়া।

এবিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘দুদক সৃষ্টি করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ করার জন্য। কিন্তু এই পর্যন্তু তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যাক্তি, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন কাউকে শাস্তি দিতে পারেনি। তাই এবারের এই কাজের জন্য দুদকের বিশ্বাসযোগ্যতা ফের প্রশ্নবিদ্ধ হল।’

তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মাসেতুর এই দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক তদন্ত করেছিল এবং তারা অর্থায়ন থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল এবং দুদককে এই ব্যাপারে সুপারিশও করেছিল। তাছাড়া এই ব্যাপারে কানাডায় একটি মামলাও চলছে। তারা নিশ্চয় এমন কিছু পেয়েছিল যা দুদক পেল না। তাই আসলে দুর্নীতি হয়েছিল কি-না তা নির্ভর করবে কানাডায় চলা ওই মামলার উপরে।

উল্লেখ্য, ২০১২সালের ১৭ডিসেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনকে পরামর্শক হিসেবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করে দুদক।

এই মামলায় যারা আসামি ছিলেন তারা হলেন- সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নদীশাসন) কাজী ফেরদাউস, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ব্রিজ কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেইনেন্স ডিভিশন) রিয়াজ আহমেদ জাবের, বাংলাদেশে এসএনসি-লাভালিনের সাব কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের ডিএমডি মোহাম্মদ মোস্তফা, কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, একই বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস। যারা এখন সবাই দুদকের তদন্তে নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়েছেন।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান পদ্মাসেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি মর্মে সকল আসামিদের ওই মামলা হতে অব্যাহতি প্রদানের ঘোষণা দেন এবং এই মামলার সকল কার্যক্রম নথিভুক্ত করেন।

শীর্ষ নিউজ

Comments are closed.