শ্রীনগরের রাজনীতিতে কদর নেই বাপ-বেটার

bcMahiমুন্সীগঞ্জের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন এক সময়ের দুদন্ড প্রভাবশালী বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য তার ছেলে মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বর্তমানে অধ্যাপক বি,চৌধুরী বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী দলের মুখপত্র হিসেবে রয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জে বিকল্পধারার জেলা কমিটিতো দূরের কথা, জেলার ৬টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় কোন কমিটি নেই। নেই দলের কোন অঙ্গসংগঠনের কমিটিও। নেই কোন দলীয় কার্যালয়। এমনকি তার জন্মস্থান শ্রীনগর উপজেলায়ও তাদের দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও দলীয় কার্যালয় নেই। নামকাওয়াস্তে গাজী শহীদুল ইসলামকে সভাপতি ও লক্ষণ চন্দ্র মন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি আংশিক কমিটি রয়েছে।

এ কমিটিরও কোন কার্যক্রম নেই। এলাকায়ও বি.চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি.চৌধুরী পদচারণা নেই। জাতীয়ভাবে বি.চৌধুরীকে সভা সমাবেশে দেখা গেলেও মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে তার অনুপস্থিতিতে এখানকার মানুষ তাদের ভুলতে বসেছেন। মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতেও বাপ-বেটাকে নিয়ে কোন আলাপ আলোচনা নেই। দলের করুণ পরিণতির কারণে গেল উপজেলা নির্বাচনে শ্রীনগরসহ জেলার কোথাও দলের পক্ষ থেকে কোন প্রার্থী তারা দিতে পারেননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির টিকিটে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে (শ্রীনগর উপজেলা ও সিরাজদিখান উপজেলার আংশিক এলাকা) ৫বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে জয়ের পর বিএনপি থেকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে একই আসনের উপ-নির্বাচনে তার ছেলে মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০২ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বিএনপিচ্যুত হলে তারা বিকল্পধারা দল গঠন করেন। এ দল থেকে ২০০৪ সালে আরেকদফা উপ-নির্বাচনে মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী কুলা প্রতীকে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।
bcMahi
প্রফেসর বি.চৌধুরী ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের এ আর খন্দকারকে ৩২ হাজার ৫১৫ ভোট, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্ট্রার কে এস নবীকে ২৬ হাজার ৩১৪ ভোটের ব্যবধানে, ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষকে ২৯ হাজার ৪১০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।

এরপর ২০০২ সালের একতরফা উপ-নির্বাচনে মাহী বি.চৌধুরী বিএনপির টিকিটে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০০৪ সালে আরেক দফা উপ-নির্বাচনে বিকল্পধারা থেকে কুলা প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ মমিন আলীকে ৪৬ হাজার ১৮২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। এদিকে, বি.চৌধুরী বিএনপিতে থাকাকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব থেকে শুরু করে সর্বশেষ দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত হয়েছেন।

এছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির সরকারের আমলে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলীয় উপনেতা হন। ২০০১ সালের জয়ের পর তিনি প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও ২০০২ সালে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। আবার দলে আসতে পারে এমন আশঙ্কায় ২০০৪ সালের উপ-নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের ও আওয়ামী লীগের ভোটে মাহী বি. চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।

এরপর ২০০৪ সালের পর এ জেলায় তাদের কদর কমতে শুরু করে। বিএনপির লোকজনও তাদের কাছ থেকে দূরে সরে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে প্রফেসর বি.চৌধুরী প্রায় ৩৮ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। আর ঢাকা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বি.চৌধুরী জামানত হারান।

মুন্সীগঞ্জবার্তা