টঙ্গীবাড়ী পল্লী বিদুৎতের রমরমা বানিজ্য চলছে!

Polli logoব.ম শামীম: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পল্লী বিদুৎ সমিতির রমরমা মিটার, খুটি ও তার বানিজ্য চলছে। সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তর, মানবজমিন, দিনকাল, বিক্রমপুর চিত্রসহ বেশ কিছু জাতীয় ও স্থাণীয় পত্রিকায় টঙ্গীবাড়ী পল্লী বিদুৎতের রমরমা মিটার বানিজ্য ৪০ দালালের হাতে জিম্মি গ্রাহক সেবা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তৃনমূল পর্যায়ের দাললেরা বেশ কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেন্ড এর সাথে সমৃক্ত হয়ে নতুনভাবে ব্যাবসা শুরু করছে।

ফলে গ্রাহদের হয়রানী আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি মিটার এর মূল্য ৬ শত এবং পল্লীবিদুৎ সদস্য ফরমের মূল্য ১শত টাকা মোট ৭ শত টাকার মিটার মূল্য গ্রাহকদের কাছ হতে ১০-১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া অব্যাহত আছে।

এদিকে প্রতিটি বিদুৎতের খুটি বাবদ ২০ হাজার এবং সার্ভিস তার বাবদ ফুট অনুযায়ী টাকা আদায় চলছে। গত ২ বছর পূর্বে উপজেলার ইসলামপুর গ্রাম হতে খুটি ও তার বসিয়ে টাকা আদায় করা হলোও সংযোগ পায়নি গ্রাহকরা।

স্থাণীয় মেম্বার ফারুক হাওলাদার জানান, গত ২ বছর পূর্বে ১৪টি খুঁটি এবং সার্ভিস তার বাবদ আমার নিকট হতে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয় টঙ্গীবাড়ী পল্লী বিদুৎতের ডিজিএম গিয়াসউদ্দিন। পরে ৪০টি মিটারের জন্য আরো ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিলেও দির্ঘদিন যাবৎ মিটার দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাচ্ছে কিন্তু মিটার দিচ্ছেনা।

হাসাইল গ্রামের ইব্রাহিম মেম্বার জানান, হাসাইল আশ্রমে নতুন সংযোগ দেওয়ার কথা বলে খুটি বাবদ ২০ হাজার করে টাকা নেয় পলী­ বিদুৎ ডিজিএম। কিন্তু এখোনো সার্ভিস তার দিচ্ছেনা।

সম্প্রতি হাসাইল বাজারের হেলালের চায়ের দোকান, শুনিল মিস্ত্রি, কামাড়খাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী এর নিকট হতে মিটার বাবদ ১২ হাজার করে টাকা আদায় করে নেয় পল্লী বিদুৎতের দালালরা।

কামারখাড়ার আলামিন, ফজুশাহ গ্রামের আফজাল হোসেন, হাসাইল গ্রামের আক্কাশ মেকার, পাচঁগাওঁ গ্রামের মোস্তাকিন ফকির পল্লী বিদুৎতের মিটারের নামে গ্রাহকদের কাছ হতে ১২ হাজার করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া অনলাইনে আবেদন করার ব্যাবস্থা থাকলেও অধিকাংশ সময়ই পল্লীবিদুৎ সমিতির সার্ভার বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ নিয়ে জনমনে তিব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পল্লীবিদুৎ অফিস সুত্রে জানাগেছে, যেই সময় গ্রাহকরা অনলাইনে কম আবেদন করেন সেই সময় কিছু সময়ের জন্য সার্ভার খোলা রাখা হয়। এ ছাড়া অধিকাংশ সময় সার্ভার বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অন-ইচ্ছুক পল্লীবিদুৎতের কতিপয় ইলেকট্রিশিয়ান জানান, প্রতি মিটার বাবদ ডিজিএম গিয়াসউদ্দিকে ১ হাজার, ইঞ্জিণিয়ার সেলিম ১ হাজার ও ইন্সপেকটর সালাম এবং ওয়াজেদকে ৫ শত করে টাকা দিতে হচ্ছে। মিটার একস্থান হতে অন্যস্থানে হস্তান্তর করার জন্য ৫-৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া পল্লীবিদুৎতের অনুমোদিত ডিলারের নামে কতিপয় তাদের মনোনিত এজেন্ট রড, বোর্ড তার সুইজ বিক্রির নামে অধিকহারে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিদুৎতের নতুন খুটি বসানোর জন্য দুরত্ব অনুযায়ী হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। খুটির দুরত্ব ১ শত ফিটের বেশি হলেই গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা এছাড়া বিগত ১ মাস যাবৎ ঘন ঘন লোড সেডিং এর কারনে শিক্ষার্ত্রীদের লেখাপড়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধা ৬টা ৩০ মি. হতে রাত ১১টা ৩০ মি. পর্যন্ত টঙ্গীবাড়ী উপজেলার অধিকাংশ স্থানে মাত্র ১ ঘন্টা বিদুৎ সরবারহ ছিলো। এর ফলে ফুঁেস উঠেছে উপজেলার পল্লী বিদুৎতের গ্রাহকরা। এ ব্যাপারে পল্লী বিদুৎতের ডিজিএম গিয়াসউদ্দিন এর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় আমি মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলবো।