টঙ্গীবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি : নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি

TongibariFlood1ব.ম শামীম: টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ওজান হতে নেমে আসা পানির স্রোতে উপজেলার পদ্মা নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শতকোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান করা পদ্মা নদীর বাঁধের ৭নং ব্লক গারুরগাওঁ নামক স্থানের বেশ কিছু অংশ ধ্বসে গিয়েছে। ফলে পদ্মাপার বাসির মনে ভাংঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এছাড়া বরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে নদী ভাংগনের ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহুর্তে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাহেলা রহমতুল্লাহ মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। চৌসার জামে মসজিদের দুটি টিউবওয়েল ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মসজিদের পাশ ঘেসেঁ নদীটি অবস্থান করছে।
TongibariFlood1
এছাড়া পাচঁনখোলা, বাঘবাড়ি এলাকার বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার প্রায় পাচঁশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে। সরেজমিনে বুধবার নদীপার সংগ্লগ্ন পাচঁগাও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই গ্রামের কয়েকশত পরিবার পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বাঁশের নির্মিত সাকো দিয়ে তারা এক ঘর হতে অন্য ঘরে যাতায়ত করছে। শিশুরা পানি সাতরিয়ে বাশেঁর সাঁেকা দিয়ে পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়ত করছে। পানিবন্দি শিল্পি বেগম কাঠ ও বাশঁ দিয়ে মাচাঁ তৈরী করে তার উপরে রান্না করছেন।
TongibariFlood2
শিল্পি বেগম জানান, গত ১৫ দিন যাবৎ পানি বন্দি অবস্থায় বসবাস করছে তার পরিবার। ঘরের সাথে রান্না ঘরের সাঁকো নির্মান করে তাতে রান্না করে অদাহারে অনাহারে সময় কাটছে তার। আর একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই তার ঘর এবং রান্না ঘর সব তলিয়ে যাবে। তারপর কোথায় যাবে জানে না সে। সে আরো জানায় এ পর্যন্ত কোন ত্রান বা সহয়তা পায়নি তারা।

এদিকে উপজেলার হাসাইল গারুরগাঁও সড়কটি পানিতে ছুই ছুই করছে। স্থাণীয় মেম্বার ইদ্রিস সেখ নিজ অর্থায়নে সড়কটির উপরে মাটি তুলছেন। সে জানায়, সড়কটি যদি তলিয়ে যায় তাহলে তীব্র পানির স্রোতে রাস্তাটিসহ পাশের বাড়িঘর বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
TongibariFlood3
এদিকে চাঠাতিপাড়া হতে পাঁচগাঁও রাস্তা, খলাগাঁও হতে কামাড়খাড়া রাস্তাসহ উপজেলার অসংখ্য রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পদ্মা পারের পূর্ব হাসাইল, চরাঞ্চলের আটিগাঁও, মান্দ্রা, নগর জোয়ার, বানারী, বিঁদগাঁও, বেহেরপাড়া, রাজারবাড়ি চরে কয়েকশত পরিবারের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

বন্যা সতর্কীকরন কেন্দ্র জানান, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সিঃ মিঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।