পিনাক-৬ ট্র্যাজেডি : ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ

pinakD‘ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি যাত্রী বহন ও আবহাওয়ার সতর্ক বার্তা লঙ্ঘন করে পিনাক-৬ লঞ্চটিকে চলাচলের সুযোগ দেয়ার কারণেই পদ্মার মাওয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এ জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের (ডস) চার কর্মকর্তা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে চরম কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।’

শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও লঞ্চমালিক নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

পিনাক-৬ ট্র্যাজেডিকে দুর্ঘটনা না বলে মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় উল্লেখ করে ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী কর্মকর্তাদের প্রাইজ পোস্টিং না দিয়ে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। ঈদে মাওয়া অঞ্চলে সমন্বয়ক ও নিয়ন্ত্রণকারীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডস কর্মকর্তাকে সদরঘাট কার্যালয়ে দেয়া পদায়ন আদেশ বাতিল দাবি করেন তারা।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানায় বিআইডব্লিউটিএর এক অভিযুক্ত কর্মকর্তার করা মামলায় গ্রেফতার লঞ্চমালিক ও তার ছেলের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর), যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্ট যৌথভাবে ‘পদ্মায় পিনাক-৬ ট্র্যাজেডি : সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব-কাণ্ডজ্ঞানহীন অবহেলায় সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞের আদৌ বিচার হবে কি?’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আশীষ কুমার দে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি ও সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুষার রেহমান, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদল, প্রাক্তন সাংসদ অ্যাডভোকেট তাসনীম রানা, পিচ মহাসচিব ইফমা হোসেন, ও হাজী মোহাম্মদ শহীদ প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে মাওয়া অঞ্চলে নৌযান চলাচল তদারকির জন্য ডসের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মো. মুঈনউদ্দিন জুলফিকারকে ডসের পক্ষে সমন্বয়ক ও নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী ও আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত উপেক্ষাকারী ছোট লঞ্চগুলোর চলাচল বন্ধ করেননি।

আবহাওয়ার ২ নম্বর সতর্কতা থাকলে ৬৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যরে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ হলেও দুর্ঘটনার দিন মাওয়া নৌবন্দরে এ ধরনের সতর্কতা বলবত থাকা সত্ত্বেও মাওয়া নৌবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ ৫২ ফুট দৈর্ঘ্যের পিনাক-৬ লঞ্চটির চলাচল বন্ধ করেননি। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ (আইএসও)- ১৯৭৬ এর সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করে সেদিন কাওড়াকান্দি ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) জাহাঙ্গীর ভুঁইয়া ৮৫ জন ধারণ ক্ষমতার পিনাক-৬ লঞ্চকে ৩০০ যাত্রী বহনের সুযোগ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে ডসের মাওয়া অঞ্চলের পরিদর্শক শফিক আইয়ুবও সেদিন নিস্ক্রিয় ছিলেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর