মালয়েশিয়া নিহত সিরাজদিখানের ফারুকের বাড়ীতে শোকের মাতম

faruk5লাশ দাফন সম্পন্ন
ইমতিয়াজ বাবুল: আমি অহন কারে নিয়া বাচুম। বিয়ার পর থেইকা তো বিদেশই সময় কাটাইলা। ভাবছিলাম এইবার আইলে আর যাইতে দিমুনা। দুই জনে দেশে থাইক্কা পোলাপান নিয়া নিমু। কিন্তু আমার সেই আশা পূরণ আইল না। বৃহস্পতিবার সকালে মালয়েশিয়ার দুর্ঘটনায় নিহত নির্মাণ শ্রমিক মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের মালখানগর ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামের মৃত কাশেম খানের পুত্র ফারুক খানের লাশ বাড়িতে এসে পৌছলে তার স্ত্রী মলি আক্তার এ ভাবেই আহাজারি করছিল। স্বজনদের আহাজারিতে নাটেশ্বরের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। মা,ভাই, স্ত্রী আর আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি পাড়া প্রতিবেশীসহ আগন্তক সকলে। বাড়িটিতে চলছিল শোকের মাতন। মা হাজেরা বেগম চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আল্লাহ তুমি আমারে নিয়া গেলানা কেন। আমাগো অহন কি অইব। কে আমার খবর লইবো। প্রতিদিন কে আমারে ফোন কইরা শরীরের কতা জিগাইবো। বাবা ফারুকরে তোর মরণের আগে আমার মরন অইল না কেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারুক খান গত ৬ বছর ধরে মালয়েশিয়ার নির্মান শ্রমিকের কাজ করছিল। পাঁচ বছর আগে সিরাজদিখানের রাজদিয়া গ্রামের মলি আক্তারকে বিয়ে করে ফারুক। পরিবারে আরো স্বচ্চলতা ফিরিয়ে আনতে আবারো মালয়েশিয়া চলে যান ফারুক। বিয়ের পাঁচ বছর পার হলেও এখনও কোন সন্ত্রান আসেনি তাদের ঘরে।
faruk5
গত ফেব্রয়ারি মাসে ফারুক দেশে এসে বেড়িয়ে গেছেন। যাবার সময় স্ত্রী বলেছিল এবার কিছু দিন থেকে একেবারে দেশে চলে আসবা। আমারা সন্ত্রান নিয়ে নিবো। তারপর দেশেই কিছু একটা করবা। কিন্তু স্ত্রী-স্বজনদের ফাঁকি দিয়ে গত ১৮ আগষ্ট না ফেরার দেশে চলে যান ফারুক। ওইদিন সোমবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়া কোটা দামানসারা সংলগ্ন সুঙ্গাই বুলুহ এলাকার রাবার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাছে এমআরটি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় নিচ দিয়ে যাওয়ার পথে নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে ৩৮ মিটার ¯প্যান (কংক্রিট) পড়ে ফারুক খানসহ তিন বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লাশ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌছে। সেখানে আনুষ্ঠানকতা শেষ করে বেলা ১১টার দিকে তার লাশ সিরাজদিখানের নাটেশ্বরের বাড়িতে পৌছে।
faruk6
এসময় সেখানে সহানুভুতি জানাতে পরিবারটির পাশে দাড়ান সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেমসহ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। নিহত ফারুকরা ৩ ভাই ৫ বোন। তার ছোট ভাই অহিদুল ইসলামও মালয়েশিয়ার কাজ করে। টিকেট না পাওয়ায় তিনি ভাইয়ের লাশের সাথে দেশে আসতে পারেননি। তবে শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে তিনি দেশে আসছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় নামাজে জানাজা শেষে ফারুককে নাটেশ্বরের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।