পিনাক মালিক কালুর হাজতবাস (ভিডিও)

pinakkaluহাজতবাসী পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু ভাই খাচ্ছেন অতি সামান্য খাবার। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই খেতে হচ্ছে তাকে। কার যে কখন কোথায় যেতে হয়, কী খেতে হয়, তা মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ জানেন না। জীবনের যাত্রাপথ অনেক। হোক সেটা নৌ, সড়ক কিংবা আকাশপথ। নানা পথেই মানুষকে পেরোতে হয় অনেক ঝামেলা। যেমন জটিল ঝামেলায় আছেন কালু ভাই।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অগণিত মানুষকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে মাওয়ার পদ্মাপাড়ে এসে থমকে দাঁড়াতে হয়। পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় লঞ্চ বা নৌযানের। এই দুস্তর পারাপারে প্রাণান্ত সেবা প্রদান করেছেন পিনাক লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক ওরফে কালু মিয়া। এখন তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন শেষে রাজধানীতে ফেরার পথে তারই সেবার তরিতে ডুবে সলিল সমাধি হয় অনেক মানুষের। সেই কষ্টে তিনি মানসিকভাবেই ভেঙে পড়েন। তার ওপর এখন জেল খাটা। যে মানুষটি শত শত মানুষের উপকার করেছেন, বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন, হাজারো মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, সেই কালু ভাই এখন জেলহাজতে আছেন অর্ধাহারে, অনাহারে!
pinakkalu
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! কালু ভাই অতি সামান্য খাবার খেয়ে কাটিয়েছেন থানা পুলিশের হেফাজতে। নোংরা আর পূতিগন্ধময় হাজতে নেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা। বাইরে থেকে কিনে দেওয়া দুই বোতল পানিই তার তৃষ্ণা মেটানোর সম্বল। অমানবিক পরিবেশে এখনো কালু ভাই সেই মানুষগুলোর জন্য চোখের পানি ফেলছেন। যারা হারিয়ে গেছেন উম্মত্ত পদ্মায়।

তিনি বলেন, তার লঞ্চ খুঁজে পেতে হবে, এমন নয়। তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুধু হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর দেহগুলো যাতে ফিরে পাওয়া যায়, সেই প্রার্থনা করছেন আল্লাহর কাছে। কালু ভাই বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় তার কোনোই হাত নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো আরো একটু দায়িত্বশীল হলে এড়ানো যেত এই মৃত্যুর মিছিল। শুধু তার চোখের পানিই কেন, এমনভাবে স্বজন হারানোর ব্যথায় যেন আর কারো চোখে পানি না ঝরে। পদ্মার পাড় যেন মানুষের অশ্রুতে আর সিক্ত না হয়।

স্বদেশ