পিনাক-৬ লঞ্চডুবি: নৌমন্ত্রণালয়ের ১০ কর্তার অপসারণ চেয়ে রিট

pinakDমুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবি এবং উদ্ধারে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বিআইডাব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানসহ ১০ জন কর্মকর্তার অপসারণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মো. হারুন অর রশীদ। বুধবার এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

রিট আবেদনে বলা হয়, শুধু পিনাক-৬ লঞ্চ নয়, বাংলাদেশে আরো অনেক লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য বিআইডাব্লিউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই দায়ী। কারণ তারা লঞ্চের ফিটনেস, রুট পারমিট এবং পরিদর্শনের দায়িত্বে নিয়োজিত।

এটা প্রমাণিত যে তারা যেমন অনুপযুক্ত নৌ-যানকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেন। একই সঙ্গে ত্রুটিযুক্ত নৌ-যান তাদের ইশারাতেই চলাচল করে। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হয় তাদের সামনে৷

আইনজীবী হারুন অর রশীদ বলেন, পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার পর তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে।

তাই তারা রিটে বিআইডাব্লিউটিএ-র চেয়ারম্যান, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ রুটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, পরিদর্শক, সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের জাহাজ জরিপকারী কর্মকর্তা, মাওয়া নদীবন্দর কর্মকর্তা এবং বন্দর, নৌ-নিরাপত্তা ও নৌ-সংরক্ষণ বিভাগের তিনজন পরিচালকের অপসারণ চেয়েছেন৷

রিটে বলা হয়েছে, পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের একজন মাওয়ার জাহাজ জরিপকারী মো. মহিন উদ্দিন জুলফিকারকে কোনো শাস্তি না দিয়ে উল্টো ঢাকা হেড অফিসে পদায়ন করা হয়েছে, যা বিস্ময়কর। তাই তার পদায়ন বাতিলেরও আবেদন জানান হয়েছে।

আবেদনকারীরা নৌ-যানের নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নৌ-শুমারি শুরুর কথা বলেছেন।

গত ৪ আগস্ট দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাওয়ায় পদ্মা নদীতে পিনাক-৬ লঞ্চটি ডুবে যায়। ঐ ঘটনায় ৪৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করার পর, উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেয়া হয়। লঞ্চটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারি হিসেবে এখনো ৬১ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

এই ঘটনায় মামলা হলেও বিআইডাব্লিউটিএ বা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কাউকে দায়ী বা আসামি করা হয়েনি৷ আসামি করা হয়েছে লঞ্চ মালিক ও লঞ্চের সারেংসহ স্টাফদের৷ এরই মধ্যে লঞ্চের মালিক আবুবকর সিদ্দিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷

১৩ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবুবকর আবু বকর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘাট ইজারাদারদের অনুমতি ছাড়া লঞ্চ ছাড়া যায় না। তারা যাত্রী দেয়। ৭০-৮০ জন যাত্রী উঠলে ভাড়া পাওয়া যায় ১০-২০ জনের। বাকি টাকা ইজারাদার রেখে দেয়। মাঝখানের ঘাটে না থামলে পরের দিন লঞ্চ সিরিয়াল মেলে না। বিআইডাব্লিউটিএ-র লোকজন এ সব জেনেও কিছু বলে না। তাঁদের সামনেই এ সব ঘটনা ঘটে।’

তিনি আরো জানান যে, তার লঞ্চের ফিটনেস, রুট পারমিট সবই আছে। এগুলো দেয়ার সময় তার লঞ্চ পরিদর্শনে কেউ আসেননি। তিনি অফিসে গিয়ে নিয়ে এসেছেন।

ডয়চে ভেলে