জিডি করে সন্তান প্রসবের অনুমতি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তান প্রসবের অনুমতি মিলেছে এক গর্ভবতীর। শনিবার এ ঘটনা ঘটে। সন্তানসম্ভবা ফিরোজা বেগমের (২২) প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিলেও স্বামীর অনুমতি না

থাকায় অপারেশন করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা। ওই নারীর স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ায় এ বিপত্তি ঘটলে শেষ পর্যন্ত জিডি করেই অনুমতি আনতে হয়েছে। শনিবার সকালে ফিরোজা বেগমের মা আজিয়া বেগম বাদী হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

ফিরোজা বেগমের মা আজিয়া বেগম জানান, তারা ফতুল্লার রেল স্টেশন এলাকাতে বসবাস করেন। তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বুয়ার কাজ করেন। তার মেয়ে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে বছর পাঁচেক আগে মুন্সীগঞ্জ সদরের গোপপাড়া এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে ইকবালের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ ২০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে আবারো ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইকবাল তিন মাস আগে অন্যত্র বিয়ে করে সাভারে চলে যায়। এর পর থেকে ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফিরোজা বেগমের প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা উঠলে শুক্রবার রাতে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানকার চিকিত্সকরা স্বামীর অনুমতি ও স্বাক্ষর ছাড়া অপারেশন করতে রাজি হননি। শনিবার ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়া হলে সেখানেও কেউ অপারেশন করতে রাজি হননি। পরে একটি ক্লিনিকের ডাক্তারের পরামর্শে আজিয়া বেগম থানায় জিডি করেন। জিডির পরেই ডাক্তার অপারেশন করতে রাজি হন।

ফতুল্লা মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই গোলাম মোস্তফা জিডি দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

দৈনিক বর্তমান