অবস্থার উন্নতি, এখনই ফিরছেন না খোকা

khoka1নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন ঢাকার সাবেক সফল মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আরও বেশ কিছুদিন তাঁকে চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এ কারণে এখনই দেশে ফিরতে পারছেন না এই তারকা রাজনীতিক।

সাদেক হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশে ফেরার জন্য রীতিমতো আকুল হয়ে আছেন তিনি। গত সপ্তাহে চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত এপয়েন্টমেন্টের সময় নিজের আকাক্সক্ষার কথা ব্যক্তও করেন খোকা। কিন্তু চিকিৎসক বলেছেন, এই মুহূর্তে চিকিৎসায় বিরতি নেবার কোনো সুযোগ নেই। আরও অন্তত আট সপ্তাহ চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থেকে একই কোর্সের ওষুধ সেবন করতে হবে তাঁকে। এরপর চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেই তাঁর দেশে ফেরা না ফেরার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে। অবশ্য গত দুই মাসের চিকিৎসায় অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার প্রেক্ষিতে সাদেক হোসেন খোকার প্রাত্যহিক ওষুধ গ্রহণের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, ঢাকা নগর বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রধান কান্ডারি সাদেক হোসেন খোকা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে বছর খানেক আগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তাঁর কিডনিতে সৃষ্টি হওয়া একটি টিউমার সেখানে অপারেশন করা হয়। সেই চিকিৎসার ফলোআপ করার জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি আবার সিঙ্গাপুর যান। তখন তাঁকে জানানো হয় যে, কিডনির অপারেশনকৃত স্থানে ক্যান্সার দেখা দিয়েছে। এরপর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত মে মাসের গোড়ার দিকে তিনি ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা হন। কিন্তু ঢাকায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে দেশত্যাগে বাধা দেয়। এ কারণে তখন তিনি যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হন। অথচ তাঁর ব্যাপারে বেশ আগেই উচ্চ আদালতের রায় আছে যে, তাঁকে বিদেশ ভ্রমণে বাধা দেওয়া যাবে না। বিমান বন্দরে পুলিশী বাধার প্রেক্ষিতে সাদেক হোসেন খোকা আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে স্বউদ্যোগেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে, তিনি ইচ্ছে করলে বিদেশে যেতে পারেন এবং বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আর বাধা দেবে না। এমন বার্তা পাবার পর মে মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

এরপর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিনি ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বিশ্বখ্যাত মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন। রোগের অবস্থান নির্ণয়ের পর চিকিৎসকরা তাঁকে মুখে সেবনযোগ্য উচ্চমাত্রার ওষুধ দিয়েছেন।

নিউ ইয়র্কে আসার পর সাদেক হোসেন খোকা প্রথম কিছুদিন কুইন্সের ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকায় তাঁর ছোট বোনের বাসায় অবস্থান করেন। জুন মাসের শেষার্ধে তিনি একই এলাকায় তাঁর মেয়ের ভাড়াকৃত বাসায় উঠেন। ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্রও যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।

খোকার পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে, প্রতিদিনই বাংলাদেশের তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাথে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকবার তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। শুভার্থীরাও প্রতিদিন খোঁজ নিচ্ছেন।

সাদেক হোসেন খোকা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।

আমাদের সময়