খাস জমিতে গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসক নিকট আবেদন

পাঠকের চিঠি
জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলের কাছে গরীব মানুষের আর্তি ব্যক্তি মালিকানার পরিবর্তে যাতে খাস জমিতে গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প করা হয়… দেশে ৮৫ সালের দিকে নদী ভাঙন এবং ঝড়-জলোচ্ছ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকার হাতে নেয় গ্রচ্ছ গ্রাম প্রকল্প। একজন ভাঙন কবলিত মানুষের কাছে এ আশ্রয় টুকু অনেক বড়। কিন্তু এ আশ্রয় প্রকল্প গুলো নিয়ে দেশের মধ্যে যে অনিয়মের চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে করে সত্যিকার অর্থে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারাই এখন বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকল্প গুলো তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে গরীর ও অসহায় মানুষগুলোকে বঞ্চিত করছেন। যারা প্রকৃত ভূমিহীন তাদেরই গুচ্ছ গ্রামে ঠাঁই পাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু দেশের গুচ্ছ গ্রাম গুলোর দিকে তাকালে সে চিত্র গুরো বড় হতাশার। মুন্সীগঞ্জ জেলার মিরকাদিম পৌরসভার তিলার্দি এলাকায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে একটি গুচ্ছ গ্রাম করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভাসমান বেঁদেদের আবাসন সমস্যা দূরীভুত করার লক্ষ্যেই মূলত এ প্রকল্প। জেলা প্রশাসক আজিজুর রহমান দায়িত্বে থাকালীন এ প্রকল্পে হাত দেওয়া হয়। কিন্তু শুরুতেই প্রকল্পে একটি গলদ থেকে যায়। খাস জমির পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাতার পরও বালু ভরাট করা হয়। গুচ্ছু গ্রাম করার জন্য যে জমি নেওয়া হয়েছে তার দশ গজ দূরেই রয়েছে সরকারের ব্যাপক খাস জমি।

কিন্তু স্থানীয় একজন স্বার্থন্বেষী ব্যক্তির বালু ব্যবসার করার স্বার্থে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও জোর-জবরদস্তি মূলক প্রকল্পে বালু ভরাট করা হয়। উক্ত জমির পৈত্রিক সূত্রে মালিক রাসেলা গং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত,মুন্সীগঞ্জে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-১৬৩ দায়ের করলে আদালত প্রকল্পে সকল প্রকার কাজ বন্ধ রাখার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যার আদেশ নং-১১ এবং তারিখ-২০/১/১৪ইং। কিন্তু উক্ত আদেশের পরও মিরকাদিম পৌরসভার একজন জনপ্রতিনিধি বালু ব্যবসা করার জন্য বালু ভরাট করেন। শুধু যে রাসেল গংয়েরই নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে তা নয়। শ্রী পলাশ গং ১১১/১৪ মামলা দায়ের করলে আদালত এখানেও নিষেধাজ্ঞা জারী করেন।

অপরেিদক প্রকল্পের অপর মালিক মোঃ ভাষানুর মিজি গং ও মামলা করেছেন তাদের পৈত্রিক জমি ফেরত পাওয়ার জন্য। অসহায় এবং গরীব ভাসানুর তার জমিতে মুলা এবং ধনিয়া পাতা বুনেছিলেন। কিন্তু প্রকল্পের নামে তার সেই জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়া হয়। স্বার্থন্বেষী মহল ভাসানুর এবং অন্যান্যদের জমির ধারে কাছে যেতে বাধা প্রদান করেন। সেখানে গেলে জানে মেলে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক রাসেল তার জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত সাইনবোর্ড দিয়েছিলেন।

কিন্তু স্বার্থন্বেষী মহলের লাঠিয়াল বাহিনীরা তার সাইনবোর্ড গুলো পর পর তিন বার তুলে ফেলে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কি করে সেখানে বালু ভরাট করা হলো এ বিষয় বর্তমান জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদলের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা তদন্ত পূর্বক বিচার দাবী করেছেন। যারা এখানে বালু ভরাটের কাজ করতে এসেছেন তাদের এ জমিতে কোন ওয়ারিস নেই। এমনকি কোন মালিকানাও নেই। তারা আদালেতের কাছে তাদের জমির মালিকানার জন্য মামালা করেছেন। মামলার রায় পেলে তারা জমিতে যাবে।

কিন্তু স্বান্বেষী মহলরের কারনে তাদের জীবন এখন বিপন্ন হয়ার পথে। জমি দাবীকারীদের সিএস এবং এসএ পর্চার নাম রয়েছে। আরএস পর্চার এসে নদী সংলগ্ন জমি বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় সে কারনে ভূল বশত পয়স্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে রেকর্ড সংশোধনের জন্য উক্ত আদালতে মামলা করেছেন সংশ্লিষ্ঠ জমির মালিকরা। সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো-আর,এস রেকর্ডে পয়স্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও জমির মালিকরা নিয়মিত জমির খাজনা পরিশোধ করেছেন।

তাই এ বিষয়ে আদালতের নিষোধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে কিছু স্বার্থন্বেষী মহল গরীব মানুষের জমি দখল করে প্রকল্প করার নাম করে ফায়দা লুটতে চায়। তাই বর্তমান জেলা প্রশাসকের কাছে অসহায় এবং গরীব মানুষের আর্তি তিনি যেন গরীব মানুষের জায়গা ব্যতিরেখে সামনে যে খাস জমি রয়েছে সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন সেটাই এখন তাদের জোর দাবী।

মোঃ তাওহীদ সরদার
মিরকাদিম পৌরসভা, মুন্সীগঞ্জ