পদ্মায় লঞ্চডুবি : গণসাক্ষ্যতে সাড়া নেই

pinakS3মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের অদূরে ‘এমএল পিনাক-৬’ লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় একটি রেস্ট হাউসে মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গণশুনানিতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও উদ্ধারকর্মীদের সাক্ষ্য নিচ্ছে।

এ পর্যন্ত গণশুনানিতে সাক্ষ্য দিতে রেস্ট হাউসে এসেছেন মাত্র ১০ জন। এদের মধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ৪ জন, নিখোঁজদের স্বজন ৩ জন ও লঞ্চডুবির পর স্পিডবোটে প্রত্যক্ষ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ৩ জন রেস্ট হাউসে এসেছেন গণশুনানিতে অংশগ্রহণ নিতে।
pinakS3
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নূর-উর-রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি এ গণসাক্ষ্য নিচ্ছেন। কমিটির সদস্য সচিব ক্যাপ্টেন জসিম, সদস্যদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার এডিসি রেভিনিউ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিসির প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রহিম তালুকদারসহ ছয়জন উপস্থিত রয়েছেন।

গণশুনানিতে সর্বপ্রথম সাক্ষ্য নেওয়া হয় বেঁচে যাওয়া যাত্রী আবুল কালামের (৭০)। দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত চারজনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়। তারা বেঁচে যাওয়ার কথা তুলে ধরে লঞ্চডুবির ভয়াল বর্ণনা করেন তদন্ত কমিটির কাছে।

উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের মাওয়া লঞ্চঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ‘এমএল পিনাক-৬’ লঞ্চ ডুবে এখনও ৬১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৪৭ জনের। পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে ২৮টি। বাকি ১৯ মৃতদেহ অজ্ঞাত হওয়ায় মাদারীপুর জেলার শিবচর পৌর কবরস্থানে গণকবর দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে লঞ্চডুবির আট দিনের মাথায় সোমবার লঞ্চ উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে সরকার। গুটিয়ে নেওয়া হয় মাওয়া ঘাটে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমও। নিখোঁজ হওয়া ৬১ জনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয় না সরকারের পক্ষ থেকে।

দ্য রিপোর্ট
======

পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবিতে তদন্তকমিটির গণশুনানি সম্পন্ন

মাওয়ার পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নৌমন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির গণশুনানি সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া সড়ক ও জনপদের রেস্ট হাউজে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয় ।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গণশুনানিতে ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৫ যাত্রী ও ২ স্পিডবোট চালকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব নুর-উর-রহমানের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি অপর সদস্য বুয়েটের অধ্যাপক গৌতম কুমার সাহা, এ কে এম জসিমউদ্দিন সরকার, মুন্সীগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম তালুকদার, বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আড়াইটার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা পদ্মার নদীর পিনাক-৬ ডুবির দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কমিটি মাওয়া প্রান্ত থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে বেঁচে যাওয়া যাত্রী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আনিসুর রহমান, রবিউলের স্ত্রী, শিবচরের সুমন মাহমুদ, ইদ্রিস ঢালী, স্পিডবোট চালক লৌহজং উপজেলার মাহাবুব হোসেন ও মনিরুজ্জামান মনিরের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

তদন্ত কমিটির সূত্র জানান, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাদারীপুরের শিবচর পাচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ মাঝিকান্দি ঘাট পরিদর্শন ও সেখানে বেঁচে যাওয়া যাত্রী বা স্বজনদের পাওয়া গেলে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট মাওয়ার অদুরে পদ্মা নদীতে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমএল পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে এখনও ৬১ জন নিখোঁজ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৪৬ জনের। ৮ দিনের মাথায় লঞ্চ উদ্ধার তৎপরতা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুল হাসান বাদল।

শীর্ষ নিউজ