৪৪ উপজেলায় ভোটার তথ্যে ‘গরমিল’

EC-Officeহালনাগাদ কার্যক্রমে ৪৪ উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে নতুন ভোটারদের তথ্যফরম ও নিবন্ধন সংখ্যায় গরমিল পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।

হালনাগাদের সময় নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের পর ছবি তুলে তাদের নিবন্ধিত করা হয়। পাশাপাশি স্থানান্তর, সংশোধন ও মৃতদের বাদ দেয়ার কাজও চলে এ সময়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত প্রায় চারশ উপজেলায় হালনাগাদের কাজ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি উপজেলা থেকে পাঠানো তথ্যে গরমিল রয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর ব্যাখ্যা চেয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দেয়া চিঠিতে বলেছেন, যতোগুলো ফরম পূরণ হয়েছে, ডাটা এন্ট্রি হয়েছে তার চেয়ে বেশি। অসম্পূর্ণ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যও প্রদর্শিত হচ্ছে।

জরুরি ভিত্তিতে ভোটারদের নির্ভুল, সঠিক বা সংশোধিত তথ্য দিয়ে তালিকা ঠিক করতে উপজেলার কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন পরিচালক।

উপজেলাগুলো হচ্ছে- কক্সবাজারের উখিয়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর, কুমিল্লার হোমনা, লাকসাম, কুড়িগ্রাম সদর, রাজিবপুর, রৌমারী, খুলনার কয়রা, চাঁদপুরের করিমগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা সদর, জামালপুরের মেলান্দহ, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, ঝালকাঠির রাজাপুর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও ভুয়াপুর, নওগাঁর আত্রাই, ধামুইরহাট ও পোরশা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, নেত্রকোনার কলমাকান্দা, বরিশালের আগৈলঝাড়া ও মুলাদি, বান্দরবানের লামা, বাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, ভোলার বোরহানউদ্দিন, মানিকগঞ্জের ঘিওর ও শিবালয়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও লৌহজং, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, যশোরের বাঘারপাড়া, রংপুরের তারাগঞ্জ, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও লংগদু, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও দেবহাটা, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও শরীয়তপুরের জাজিরা।

দেখা যাচ্ছে, কোনো উপজেলায় হালনাগাদে মৃত ভোটারদের কোনো তথ্য নেই। আবার কোনো উপজেলায় ফরমের সংখ্যা ও নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা সমান নয়। এক উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের চেয়ে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা বেশি।

একাধিক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভোটারযোগ্যদের তথ্য নির্ধারিত ফরমে সংগ্রহ করা হয়। এরপর ছবি তুলে তাদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়। কোনো কোনো এলাকায় অনেকের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও কিছু ভোটার এখনো ছবি তুলতে আসেননি। এ কারণেই সংখ্যায় গরমিল।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করা হবে আগামী বছরের শুরুতে। তার আগেই যাবতীয় ত্রুটি সংশোধন করে নেয়া হবে।

বর্তমানে দেশে ৯ কোটি ১৯ লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। এবার হালনাগাদে ৪৬ লাখের মতো নতুন ভোটার যোগ হতে পারে বলে ধারণা করছে ইসি।

‘ফল বিবরণী’র ভোটসংখ্যাতেও গরমিল

দশম সংসদ নির্বাচনে ৩৬টি জেলার প্রায় ৯০টি সংসদীয় আসনের বেশ কিছু কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যাতেও গরমিল ধরা পড়েছে।

ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভোট গণনা বিবরণী [ফরম ১৬] ও রিটার্নিং কর্মকর্তার একীভূত বিবরণীতে [ফরম ১৮] ভোটার সংখ্যার গরমিলের ব্যাখ্যা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সুনামগঞ্জ ১, ২, ৩, গাইবান্ধা-৩, মুন্সীগঞ্জ ১, ২ ও পিরোজপুর-৩ আসনের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে এ ধরনের গরমিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠিয়েছেন ইসির উপ সচিব সাজাহান খান।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের ফলাফলে কোনো গরমিল নেই।তবে কোনো কোনো কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ থেকে ১০টি কমবেশি হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক মোট ভোটার সংখ্যা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা যা পাঠিয়েছেন, তার সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো সবকটি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যার মিল নেই।

কোন তথ্যটি সঠিক কিংবা ভোট সংখ্যার গরমিল কেন হয়েছে ইসি তারই ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সাতক্ষীরা, যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল, বরিশাল, ঝালকাঠী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ ৩৬টি জেলার ৯০টি আসনে ভোটার সংখ্যায় এ ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।

একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, ইতোমধ্যে ৩০টি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার ব্যাখ্যা তারা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট। নির্বাচনের আগে কেউ হয়তো কেন্দ্র স্থানান্তর করেছেন, কেউ আবার নতুন যোগ হয়েছেন। করণিক ত্রুটির কারণেও কয়েকটি ভোট সংখ্যায় গরমিল হয়েছে। এটা বড় ধরনের ত্রুটি নয়, সঠিক ব্যাখ্যাই তারা দিচ্ছে।”

বিডিনিউজ