ব্যক্তিত্ব – হুমায়ুন আজাদ

haহুমায়ুন আজাদ একাধারে কবি, ভাষাবিজ্ঞানী, ঔপন্যাসিক, গবেষক ও কিশোর সাহিত্যিক ছিলেন। প্রথাবিরোধী এ লেখকের জন্ম ১৯৪৭ সালে ২৮ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের রাঢ়িখালে। বাবা আবদুর রাশেদ শিক্ষকতা করতেন, পরে পোস্টমাস্টারির চাকরি নেন। মা জোবেদা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে হুমায়ুন ছিলেন সবার বড়।

স্থানীয় জেসি বোস ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন ঢাকা কলেজ থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটোতেই প্রথম স্থান লাভ করেন। এরপর স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বাংলা ভাষার সর্বনামীয়করণ’ বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি নেন। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। ছেলেবেলাতেই কবিতা দিয়ে লেখালেখির হাতেখড়ি।

১৯৯২ সালে তাঁর নারীবাদী গ্রন্থ ‘নারী’ ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং সরকার বইটি পাঁচ বছর নিষিদ্ধ রাখে। পরে ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাস লিখে তিনি উগ্রপন্থীদের রোষানলে পড়েন। ‘ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল’, ‘সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে’, ‘মানুষ হিশেবে আমার অপরাধসমূহ’সহ প্রায় ৭৫টি বই তিনি লেখেন। বহুভাষাবিদ, বহুমাত্রিক এই লেখক ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলা থেকে বের হয়ে জঙ্গি হামলার শিকার হন। বিদেশে নিবিড় চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থও হয়ে ওঠেন। তবে ওই বছরই ১১ আগস্ট রাতে এক অনুষ্ঠান থেকে জার্মানির মিউনিখের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে রাতের কোনো একসময় মারা যান।

কালেরকন্ঠ