পিনাক উদ্ধারে গ্রামবাসীর অভিযান

pinak6RPআধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন উদ্ধারকারী জাহাজ জরিপ-১০, কাণ্ডরি-২, সন্ধানী, তিস্তা এখনো সন্ধান পায়নি মাওয়ায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এর। তাই এবার মেদেনীমণ্ডল এলাকার জনগণ সনাতন পদ্ধতিতে লঞ্চটি উদ্ধারে পদ্মায় নামছেন।

তাদের এ পদ্ধতিকে টোটকা বা চিরুনি অভিযান বলা হয়।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে নায়লনের রশির মধ্যে ১০০ ইট ও ১০টি দেশীয় তৈরি গ্রাফি দিয়ে এবং দুই পাশে দুইটি ট্রলার বেঁধে ১২শ’ হাত রশি পদ্মার তলদেশে ছেড়ে দিয়ে টানা জালের মতো টেনে নিয়ে চিরুনি অভিযান চালানো হবে।

পিনাক-৬ এর ডুবে যাওয়া স্থল থেকে ২০০ মিটার ভাটির দিকে এই চিরুনি অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মেঘনা চেইন কপ্পার মালিক হাসান ও ডুবুরি কামাল।

তারা জানান, তাদের এই চিরুনি অভিযান শুধু ভাটির দিকে চালানো হবে। উজানের দিকে তারা যাবেন না।
pinak6RP
দুর্ঘটনার সপ্তম দিনের সকাল পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন উদ্ধারকারী জাহাজগুলো জাহাজটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় মেদেনীমণ্ডল এলাকার লোকজন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাদের এ অভিযানকে গ্রামীন ভাষায় টোটকা অথবা নদীর তলদেশে চিরুনি অভিযান বলা হয়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বৃদ্ধ মোসলেম হাওলাদার জানান, এ অভিযানে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল অংশ নিচ্ছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

এই টোটকা বা নদীর তলদেশে চিরুনি অভিযানের শুরুতেই পিনাক-৬ এর সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আশবাদী ডুবুরি কামাল জানান।

তিনি জানান, যদি শুরুতেই পাওয়া না যায় তাহলে তাদের এ কার্যক্রম সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত হবে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় ফের মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। রবিবার সকাল ছয়টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে।

এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার রাত ১০টা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে অনুসন্ধানী জাহাজ কাণ্ডারি-২।

সকাল থেকে ফের কাণ্ডারি-২ পানির ভেতর নোঙরের মতো হুক নামিয়ে ধাতব বস্তুটিকে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মত কিছু ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কাণ্ডারি-২ জাহাজের ক্যাপ্টেন মঞ্জুরুল করিম।

তিনি বলেন, নোঙরের সঙ্গে সকালে নদীর তলদেশের ওই ধাতব বস্তু পরীক্ষার জন্য ডুবুরি নামানো হয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে তারা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না। এজন্য আমরাও ওই বস্তুটি সম্পর্কে সন্দিহান রয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাওয়ার পদ্মা নদীতে পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত পদ্মার ভাটিতে নানা জায়গায় নদী থেকে মোট ৪৩ জন যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানিয়েছেন, উদ্ধার লাশের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় সনাক্তের পর তাদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আর ১২ জনের ডিএনএন নমুনা সংগ্রহ করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। বাকি মরদেহ মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচ্চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া লঞ্চের ৪৯ জন যাত্রীর জীবিত থাকার সন্ধানের পর নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে।

লঞ্চডুবির ঘটনায় মাওয়ায় স্থাপিত পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থাপক শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান শনিবার রাতে বলেন, বর্তমান ১২০ জনের নিখোঁজ তালিকার অন্তত ৪৯ জন জীবিত। এদের অনেকেই পিনাক-৬ লঞ্চেই ছিল না। সে হিসেবে এখন নিখোঁজের সংখ্যা ৭১ জন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিখোঁজ তালিকায় নাম উঠা সব যাত্রীদের স্বজনদের সঙ্গে আজ কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে নিখোঁজ এসব যাত্রীদের ৪৯ জনই জীবিত আছেন।’

মজিবুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর অনেকে সাঁতরিয়ে কূলে উঠেছেন। কিন্তু তাদের মোবাইল পানিতে হারিয়ে যাওয়ায় কিংবা বিকল হয়ে যাওয়ায় তারা তাৎক্ষণিক স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এজন্য স্বজনরা এসে নিখোঁজ তালিকায় নাম উঠিয়ে যান।’

‘পরবর্তীতে নিখোঁজ এসব যাত্রী বাড়িতে ফিরে গেলেও স্বজনরা আর নাম প্রত্যাহার করতে আসেননি। এমনকি ওইদিন পিনাক-৬ এ আসার কথা ছিল কিন্তু আসেননি, এমন তিন যাত্রীর নামও নিখোঁজ তালিকায় উঠে’ যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বার্তা রিপোর্ট