৪৫ লাশ উদ্ধার, হস্তান্তর ২৭টি : পদ্মায় লঞ্চডুবি

pinakDBপদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে এই পর্যন্ত ৪৫ জনের লাশ ভাটির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে ২৭টি জনের পরিচয় সনাক্ত হওয়ায় স্বজনদের কাছে সে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

গত ৪ অগাস্ট কাওড়াকান্দি থেকে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মা পার হয়ে মাওয়া আসার পথে মাঝনদীতে ডুবে যায় পিনাক-৬।

ছয়দিনেও লঞ্চটি সনাক্ত করা যায়নি। লঞ্চডুবির পরপরই দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পর দিন থেকে পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভোলার সাগর মোহনা পর্যন্ত একে একে ভাসমান লাশ পাওয়া যেতে থাকে।
pinakDB এই রকমই লাশ ভেসে উঠছে বিভিন্ন স্থানে। চাঁদপুরে ভেসে ওঠা পিনাকের এক যাত্রীর লাশ।

শনিবার সন্ধ্যায় বরিশালের হিজলা থেকে অজ্ঞাতনামা ২৫ ও ৫০ বছরের দুই পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।এই নিয়ে উদ্ধার লাশের সংখ্যা ৪৫ জনে দাঁড়াল।

শনিবার সকালে নোয়াখালীর হাতিয়ায় উদ্ধার হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ইব্রাহিম খানের ছেলে আহম্মেদ খান (৪২) এবং ভোলার দৌলতখানে মঈন (৩) নামের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার হয়।

বরিশালের হিজলায় উদ্ধার হয় মঈনের মা রোকসানা বেগমের (৩০) লাশ। এই মা ও ছেলেসহ তিনজনের লাশ শনিবার সনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুপুরে মুন্সীগঞ্জের ক্রাউন সিমেন্টের কাছে ধলেশ্বরী নদী থেকে সাদা গেঞ্জি ও লাল প্যান্ট পরা আড়াই বছরের একটি ছেলেশিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে।

এই পর্যন্ত ভোলা থেকে ১১, শরীয়তপুর থেকে ১০, বরিশাল থেকে ১১, চাঁদপুর থেকে ৫, লক্ষ্মীপুর থেকে ১, মাদারীপুর থেকে ১, নোয়াখালী থেকে ১ ও মুন্সীগঞ্জ থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, ২৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চেনার উপায় নেই এমন ১৫টি লাশ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

উদ্ধার লাশের মধ্যে ১৬ জন নারী, ১৩ জন পুরুষ এবং ১৪টি শিশু।

লঞ্চডুবিতে নিখোঁজের সংখ্যা সকালে ১২২ জন বলা হলেও বিকাল থেকে তা কমিয়ে ৬৭ জন দেখানো হচ্ছে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। তবে কেন সংখ্যাটি এত কমে গেল, তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

বিডিনিউজ