পিনাক-৬ ট্র্র্যাজেডি: ভাটির লাশ উজানে উদ্ধার!

ঢাকা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর স্রোত মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়ে মেঘনায় প্রবাহিত হয়। মেঘনার স্রোত পদ্মা নদীর চাঁদপুরে প্রবাহিত। মেঘনা নদীর স্রোত উল্টো দিকে ধলেশ্বরীতে যাওয়ার কথা নয়।

কিন্তু শনিবার দুপুরে স্রোতের উল্টো দিকে মুন্সিগঞ্জের মোক্তারপুরে ধলেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আড়াই বছরের এক শিশুর লাশ। অজ্ঞাত এই লাশকে মুন্সিগুঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের বলে জানিয়েছে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

প্রমত্তা পদ্মা নদীতে যেখানে প্রবল স্রোত আর ঢেউয়ের কারণে ডুবে যাওয়ার ষষ্ঠ দিনে আধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেও পিনাক-৬ এর অবস্থান জানা যায়নি, সেখানে স্রোতের উল্টো দিকে একটি লাশ পিনাক-৬ এর বলে গণনা করায় বিষ্ময় সৃষ্টি হয়েছে মাওয়া ঘাট এলাকায়।

মুন্সিগঞ্জের মোক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে শনিবার দুপুর একটার দিকে অজ্ঞাত ওই শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে লাশটি লঞ্চ দুর্ঘটনার কিনা।

আর মাওয়াঘাটে স্থাপিত পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মজিবর রহমান বলেন, ওই লাশটি পিনাক-৬ দুর্ঘটনার।

এদিকে স্রোতের উল্টো দিকে লাশ মাওয়া ঘাটে উদ্ধারের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

লাশটি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর সরকারি প্রাথিমিক বিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে।

অনেকের দাবি, লঞ্চ উদ্ধার করতে না পেরে বাইরের লাশ লঞ্চ দুর্ঘটনার বলে চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে পিনাক-৬ উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ড‍ার মনজুর বিকেলে ‘কান্ডারি-২’ বিশেষ লঞ্চ থেকে সাংবাদিকদের জানান, মাওয়াঘাটের এক কিলোমিটারের মধ্যে যে ধাতব বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে তার দৈর্ঘ ১৭ মিটারের মত।

আর গত সোমবার পিনাক-৬ লঞ্চটিরও দৈর্ঘ সাড়ে ১৬ মিটার। তবে পানির নিচে ওই অবজেকটির আকৃতি বিকৃত হয়ে গেছে বলেও জানান কমান্ডার মনজুর।

পিনাক-৬ উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এই কর্মকর্তা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর