লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিয়মে পরিণত হয়েছে!

mawa padma lমাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথ
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে আইন অমান্য করে চলছে যাত্রীবাহী নৌযানগুলো। ওই নৌপথে চলাচলরত অধিকাংশ নৌযানের প্রকৃত ফিটনেস না থাকলেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ফিটনেস সনদ নিয়ে চলছে কিছু নৌযান। এছাড়া অভিযোগ পাওয়া গেছে, অনেক নৌযানের কোনো ফিটনেস সনদই নেই। দীর্ঘদিন পরও নবায়ন করা হয়নি অনেক নৌযানের ফিটনেস সনদ। স্থানীয় প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও ঘাট সংশ্লিষ্টদের প্রচ্ছন্ন সহায়তায় দিনের পর দিন ওই নৌযানগুলো নৌপথে চলাচল করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে প্রায়শ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে মাওয়া ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটির প্রকৃত ফিটনেস ছিল না।

লঞ্চটি ছিল আকারে ছোট, কাঠের তৈরি ও দুর্বল অবকাঠামোর। যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল দিনের বেলা সর্বোচ্চ ১২০ ও রাতে ৯৫ জন। বিআইডবিস্নউটিএর বিষয়টি নজরদারি করার কথা থাকলেও মাদারীপুর-কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ১২০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতার ওই লঞ্চটি ১৬০ যাত্রী নিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে আরও শতাধিক যাত্রী ওঠায়। মূলত দুর্বল অবকাঠামো আর অতিরিক্ত যাত্রী ধারণ করার কারণেই লঞ্চটি মাঝ পদ্মায় ডুবে যায়। সূত্র জানায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও মাওয়া-মাঝিকান্দি পথে যাত্রী পারাপার করে প্রায় শতাধিক ছোট-বড় লঞ্চ। এছাড়া রয়েছে চার শতাধিক স্পিডবোট ও শতাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। স্থানীয় প্রভাবশালী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মূলত ওই নৌযানগুলোর মালিক।

এছাড়া মাওয়া ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোটঘাট নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা। তাদের প্রভাবের কাছে জিম্মি ওই নৌপথে চলাচল করা দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার লাখ লাখ মানুষ। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বিআইডব্লিউটিএর নজরদারি আরও জোরদার করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে মাওয়ায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে মেনে নিয়ে তিনি বলেন, লোকবলের অভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সব নৌযানে দুর্ঘটনার সময় জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট, বয়া ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম রাখাসহ অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করতে নির্দেশ দেন তিনি।

আলোকিত বাংলাদেশ