পিনাক-৬ খুঁজতে রাতে ৫ উদ্ধারকারী জাহাজ

শুক্রবার সারাদিন ধরে জরিপ-১০, কান্ডারী-২, তিস্তা, সন্ধানী, নৌ-বাহিনীর রেসকিউ বোট, পেট্রোল ক্রাফট, ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ বোট এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বোটের যৌথ তৎপরতায়ও খোঁজ পাওয়‍া যায়নি ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির।

সারাদিন পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের পর শুক্রবার দিবাগত রাতেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকছে। রাতভর উদ্ধার তৎপরতায় নিযুক্ত থাকবে সন্ধানী, তিস্তা, তুরাগ, ববিথ, জরীপ -১০ নামে উদ্ধারকারী ৫টি জাহাজ।

পঞ্চম দিন শেষে ডুবে যাওয়া লঞ্চের খোঁজ পাওয়া না গেলেও উদ্ধারকর্মী ও সংবাদকর্মীরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পদ্মার তীরে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বে থাকা মুন্সীঞ্জের সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে ৫টি জাহাজ নিয়ে রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালানোর খবর নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি মাওয়া ঘাটের ডাক-বাংলোতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ চলবে এবং আরো বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এ উদ্ধার কাজ চালানো হবে।

এদিকে, এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযানস্থল থেকে ফিরে নৌ-বাহিনী টিমের প্রধান ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, সব ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে ৫০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি।

পিনাক-৬ উদ্ধারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে, কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, মো. সরোয়ার (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার কর‍ার যে গুজব পাওয়া গিয়েছিল তার নামে প্রতারণার মামলা করা হচ্ছে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ১২৬ জন। আর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনের পরিচয় মিলেছে।

পরিচয় না পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনকে মাদারীপুর জেলার শিবচর করবস্থানে দাফন করা হয়েছে। আর বাকি ৪ জনের লাশ শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদারীপুর জেলার প্রশাসনের আওতায় রাখা হয়েছে।

মাওয়া ঘাট ও শিবচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিখোঁজের স্বজনেরা এখনও অপেক্ষায় আছেন। তাদের একটাই দাবি জীবিত না হোক অন্তত মরদেহটুকু যেন তারা পান।

এ দিকে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাচাতো ভাইকে পাওয়ার আশায় কখনও মাওয়া ঘাটে আবার কখনও পাঁচ্চুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হন হামিদুর রহমান। তার চাচাতো ভাইয়ের নাম মিন্টু মোল্লা।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, মিন্টু পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। এখনো পরিবারের সবাই তার অপেক্ষায় আছে।

লঞ্চডুবার সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই সব জায়গায় খবর নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি।

কিন্তু কোথাও আমার ভাইকে পাচ্ছিনা। মিন্টু সিলেটের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। মিন্টু ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিলেন বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি!

মাওয়া ঘাটের এক ব্যবসায়ীরা বাংলানিউজকে জানান, লাশ হস্তান্তরের স্থান মাদারীপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও মাওয়া ঘাটে নিখোঁজের স্বজেনারা উপস্থিত আছেন। কিন্তু কেউ কোনো সংবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না।

মাওয়া ঘাটের কন্ট্রোল রুমের মূল দায়িত্বে আছেন শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুজিবুর রহমান।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, লাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদারীপুরের পাঁচ্চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এখনও লঞ্চটি উদ্ধারের তৎপরতা চলছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর