‘পিনাকের অবস্থান ৯০ ভাগ নিশ্চিত’

মৃতদেহ মিলেছে ৪৩, হস্তান্তর ২৭, নিখোঁজ ১০৭
কোস্টগারডের সাব-লেফট্যানেন্ট মোহাম্মদ জাকির হোসেন শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘সাইড স্ক্যান সোনার’ এর ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি অনুযায়ী ‘পিনাক-৬’ এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় মিলে যাচ্ছে।’

‘পিনাক-৬’ এর অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত কোস্টগার্ডের একটি বোট দুপুরে মাওয়া ঘাটে এসে ভিড়ে। এ সময় জাকির হোসেন দ্য রিপোর্টকে এই তথ্য জানান।

কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রচণ্ড স্রোত, বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে অনুসন্ধানে সম্ভাব্য চিহ্নিত জায়গাগুলোতে অভিযান চালাতে সমস্যা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থলের পাঁচশ মিটারের মধ্যে পাওয়া একটি ধাতব অবকাঠামোর অবস্থান শনাক্তের কথা নিশ্চিত করে জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘অনুসন্ধানে অনেকগুলো সন্দেহজনক ছবি আমাদের যন্ত্রে ধরা পড়েছে। এর মধ্যে দুটি ছবিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শনাক্তকরণের কাজ চলছে। এই দুটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য হিসেবে যে ছবিটি চিহ্নিত করা গেছে তা ডুবে যাওয়া লঞ্চটির সঙ্গে ৯০ শতাংশ মিলে যাচ্ছে।’

তবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ‘পিনাক-৬’ এর অবস্থান নির্ধারণ বিষয়ে শেষ কথা বলছেন না কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার এম মঞ্জুর করিম চৌধুরী শনিবার দুপুর সোয়া ১টায় দ্য রিপোর্টকে বলেছিলেন, ‘কয়েকদিনের অনুসন্ধান শেষে একটি সার্বিক পর্যালোচনা করে সন্দেহজনক কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্দেহের জায়গাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’

দ্য রিপোর্টের সঙ্গে কথা বলার সময় এম মঞ্জুর ‘কাণ্ডারি-২’ জাহাজে অবস্থান করছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘বেশি সন্দেহের জায়গাটির গভীরতা ৬০-৭০ ফুটের বেশি নয়।’

কি ধরনের আলামত আপনারা পেয়েছেন- জানতে চাইলে মঞ্জুর বলেন, ‘জরিপ-১০ এর সাইড স্ক্যান সোনার যন্ত্রের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি ধাতব কাঠামোর অবস্থান নির্ধারণ করতে পেরেছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সন্দেহের জায়গা।’

এ ধাতব বস্তুটির অনুসন্ধানে ডুবুরি পাঠাবেন নাকি যন্ত্রের মাধ্যমে নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করবেন? জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কেবল তথ্য বিশ্লেষণের কাজ শেষ করেছি। তাতে দেখা গেছে, ধাতব পদার্থটি স্থির জায়গায় থাকছে না। খুব ধীরে হলেও স্থান পরিবর্তন করছে। অর্থাৎ নদীর তলদেশে প্রচুর কারেন্ট (স্রোত) রয়েছে। এ কারণে ধাতব এ খণ্ডটির কাছে কীভাবে পৌঁছানো যায় সেই পরিকল্পনা করছি।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে মাওয়ার পদ্মায় দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৫ দিনে ৪৩টি মৃতদেহের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ২৭ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী এখনও নিখোঁজ রয়েছে ১০৭ জন যাত্রী।

দ্য রিপোর্ট