নারায়ণগঞ্জ থেকে ৫ রুটের লঞ্চে নেই মাস্টার ড্রাইভার

mawa padma lদুর্ঘটনার আশঙ্কা
প্রতিটি লঞ্চেই মাস্টার ড্রাইভার দেখিয়ে সার্ভে সনদ নেয়া হলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচটি রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগলঞ্চেই নেই মাস্টার ড্রাইভার। ওইসব লঞ্চ চালাচ্ছে সুকানি-গ্রিজাররা। কয়েকটি রুটে তৃতীয় শ্রেণীর মাস্টার ড্রাইভাররা চালাচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর লঞ্চ।

অভিযোগ রয়েছে, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে ফিটনেসবিহীন লঞ্চকে অর্থের বিনিময়ে সার্ভে সনদ দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে সার্ভে সনদপ্রাপ্ত লঞ্চগুলোকে রুট পারমিট দিতে হয় বিআইডব্লিউটিএকে। এতে করে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তবে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, সবকিছু দেখেই তারা সার্ভে সনদ দিচ্ছেন। অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির দাবি, তারা নিয়ম মেনেই লঞ্চ পরিচালনা করছেন।

বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সভাপতি মাহমুদ হোসেন আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী কোনো লঞ্চেরই মাস্টার ড্রাইভার নেই। এসব লঞ্চ চালাচ্ছে সুকানি-ড্রাইভাররা। সার্ভের সময় মালিকরা চালাকি করে ডিসপেনশন সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে।

আইএসও-১৯৭৬ এর নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণীর নৌযান সূর্যাস্তের পর চলতে পারবে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী লঞ্চগুলো রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্তও চলে। সার্ভের সময় যে ধারণক্ষমতা দেখানো হয়, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চলাচল করে। যেমন যে লঞ্চটি ৪০ জনের কনজারভেসি, আয়কর, যাত্রী কল্যাণ ট্যাক্স দেয় সেই লঞ্চটি প্রতি ট্রিপে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ যাত্রী বহন করে থাকে। প্রতিটি লঞ্চে বয়া থাকার প্রয়োজন ১২-১৬টি। কিন্তু রয়েছে ৫-৬টি। নড়িয়া ও চাঁদপুর রুটে দ্বিতীয় শ্রেণীর লঞ্চ চালাচ্ছে তৃতীয় শ্রেণীর মাস্টার ড্রাইভার। এতে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের চিফ ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান জানান, তারা মাঝেমধ্যেই শীতলক্ষ্যা নদীতে চলাচলকারী সার্ভে সনদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার এসএম নাজমুল হক জানান, তারা বিধিমালা অনুসরণ করেই এক বছরের জন্য সার্ভে সনদ দিয়ে থাকেন। তবে যদি কোনো লঞ্চ মালিক এক মাস মাস্টার ড্রাইভার রেখে বাকি ১১ মাস তাদের না রাখে, সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকে না।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা বাবু লাল বৈদ্য জানান, পাঁচটি রুটে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬-৭টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পরপর লঞ্চ ছেড়ে যায়। এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মাছুয়াখালী-মতলব রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর রুটে ১টি, সুরেশ্বর-নড়িয়া (শরীয়তপুর) রুটে ২টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। লঞ্চ মালিকরা সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে সার্ভে সনদ নিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করে থাকেন। এরপর তারা রুটের বিষয়টি অনুমোদন দিয়ে থাকেন এবং ওভারলোডের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল জানান, ৬৫ ফুটের নিচে যেসব লঞ্চ, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো কোয়ার্টার মাস্টার (সুকানি-গ্রিজার) দিয়ে পরিচালনা করা হয়। তারা ডিজি শিপিং থেকে কোয়ার্টার মাস্টারের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। এছাড়া চাঁদপুর ও নড়িয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো সিঙ্গেল ইঞ্জিন হওয়ায় সেগুলো তৃতীয় শ্রেণীর মাস্টার ড্রাইভাররা চালাতে পারেন। তারা সব নিয়ম-কানুন মেনেই লঞ্চ পরিচালনা করছেন।

ওভারলোড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে কখনোই ওভারলোড হয় না। এছাড়া ঈদের আগে আমরা লঞ্চের ছাদে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেই যাতে করে কেউ ছাদে উঠতে না পারে। তিনি দাবি করেন, তাদের সতর্কতার কারণে নারায়ণগঞ্জে লঞ্চ দুর্ঘটনা খুবই কম হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র দুটি লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আলোকিত বাংলাদেশ