শেষধাপের অনুসন্ধান চলছে : উদ্ধার অনিশ্চয়তায় ‘পিনাক-৬’

pinakDপাচঁ দিনের অনুসন্ধান তৎপরতার পরও ডুবে যাওয়া লঞ্চের খোঁজে ইতিবাচক কোনো খবর জানাতে পারেননি অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা। ‘পিনাক-৬’ এর আদৌ খোঁজ পাওয়া যাবে কিনা সে রকম আশার বাণীও নেই তাদের কাছে। এরপরও চলছে অনুসন্ধান কাজ। নতুনভাবে শুক্রবার সকালে অনুসন্ধান বহরে যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে আসা দেশের সর্বাধুনিক ও বহুমুখী প্রযুক্তি সমৃদ্ধ টাগ বোট ‘জরিপ-১০’।

দুর্ঘটনার শুরু থেকে অনুসন্ধান কাজ তদারকিতে যুক্ত আছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের প্রায় সকল উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা। তাদের একজনের সঙ্গে একান্তে কথা বললে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরাসরি অনুসন্ধান কাজে নিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদককে জানান, ‘ডুবে যাওয়া লঞ্চটি পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন খোদ অনুসন্ধানকারীরা। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের কারণে এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।’

অনুসন্ধান কাজে নিযুক্ত নৌ-বাহিনী অংশের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে আছেন ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘জরিপ-১০’ নিয়ে অনুসন্ধানের সর্বশেষ ধাপে আছি আমরা। আগামীকালের (শনিবার) মধ্যেই একটি সিদ্ধান্তের পর্যায়ে আসতে হতে পারে।’
pinakd
সেই সিদ্ধান্তটি কি হতে পারে? জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অনুসন্ধান অভিযান সফল হলে ডুবে যাওয়া লঞ্চের ঠিকানা জানা যাবে, না হয় মালয়েশিয়ার হারিয়ে যাওয়া বিমানের মতো হবে।’

লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর শুরু হওয়া অনুসন্ধানের প্রথম থেকে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট সিদ্দিক। শুক্রবার দুপুরে টেলিফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। সার্বক্ষণিক অনুসন্ধানে নিযুক্ত এই কর্মকর্তা দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১২ কিলোমিটার ভাটি পর্যন্ত প্রায় সবটুকু এলাকা ঘুরেছি আমাদের অনুসন্ধান যন্ত্র নিয়ে। কিন্তু কোনো কিছুই পাইনি। আজকে অনুসন্ধান এরিয়া আরও বাড়ানো হচ্ছে।’

গত সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে এসে ডুবে যাওয়া ‘পিনাক-৬’ লঞ্চটিকে কি এখনও খুঁজে পাওয়া সম্ভব? এই প্রশ্ন রেখেছিলাম মাওয়া ঘাটে দীর্ঘ ৩০ বছর লঞ্চের মাস্টারির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ৮০ বছরের মুজিবুর রহমানের কাছে। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘তিন দিন যাওয়ার পর এই লঞ্চ পাওয়ার আশা করা ঠিক না। আর কোনো দিনও হয়তো খোঁজ পাবেন না এটার।’

কারণ কি? জবাবে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘যে জায়গায় লঞ্চটি ডুবেছে তার উপরে (পানির) যত স্রোত নিচে আরও বেশি স্রোত। এই সময়ে পানির মধ্যে মাটিও থাকে প্রচুর। কোনো জায়গায় আটকে গিয়ে বালু চাপা পড়ে গেছে।’

অভিজ্ঞ এই মাস্টারের কথার পুনরাবৃত্তি শোনা গেছে মাওয়া ঘাটের একাধিক মানুষের মুখেও।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রসাশক সাইফুল হাসান বাদলের কাছে জানতে চেয়েছিলাম পাঁচ দিনের অনুসন্ধান তৎপরতার পর তাদের মূল্যায়ন কি? জবাবে তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) বিকেলে মন্ত্রী মহোদয় আসার কথা। তিনি আসলে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ অবস্থা আপনাদের জানাতে পারব।’

অনুসন্ধান কাজ সমাপ্তির কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি? জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন ‘এমন সিদ্ধান্তের কথা এখনও ভাবছি না। তারপরও মন্ত্রী মহোদয় আসলে মিটিংয়ের পর বিস্তারিত জানাতে পারব।’

দ্য রিপোর্ট