বেতন তোলা হলো না তোবা শ্রমিক রিতার

Rita_toba_Pinak-6বকেয়া-বেতন নেওয়ার আশায় ফরিদপুর থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন বাড্ডার হোসেন মার্কেটের পোশাক কারখানা তোবা ফ্যাশনসের শ্রমিক রিতা আক্তার।

রাজধানীতে এসে তিনিও হয়তো যোগ দিতেন বকেয়া-বেতনের দাবিতে অনশনরত শ্রমিকদের সঙ্গে। কিন্তু লঞ্চের আরো অনেকের সঙ্গে রিতার প্রাণও কেড়ে নিল প্রমত্ত পদ্মা।

সোমবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ক্রসিংয়ে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমএল পিনাক-৬-এ ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের আব্দুল হাই খলিফার মেয়ে রিতাও ছিলেন।

লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ১১০ জনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে রিতা ছিলেন না। বুধবার চাঁদপুরে পদ্মার মোহনা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে প্রশাসন।

রিতার বাবা আব্দুল হাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রায় তিন বছর আগে বাড়ি থেকে ঢাকায় যান রিতা। বড় বোনের বাসায় অবস্থান করে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দুই বছর আগে তিনি তোবা ফ্যাশনসে কাজ নেন।

“বেতন-ভাতা না পেলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে আসে রিতা। ঈদ শেষে বকেয়া-বেতন পাওয়ার আশায় ঢাকায় রওনা দেয় সে।”

তিনি জানান, দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল রিতা।

বুধবার ভোররাতে নিজ বাড়ি তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রিতার লাশ দাফন করা হয়।

রিতার ভাই সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রিতার চেহারা দেখে চেনা না গেলেও তার পরণের কাপড় দেখে তাকে সনাক্ত করা হয়।

একই দিনে উপজেলার মানিকনগর গ্রামের মনিরউদ্দিন মল্লিকের ছেলে জামাল মল্লিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আজিজ নিহতদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চের অবস্থান চতুর্থ দিনেও সনাক্ত হয়নি, অভিযান অব্যাহত আছে।

স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা নিখোঁজদের তালিকা অনুযায়ী এখনো ১২৩ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে মাওয়ায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটিতে পদ্মা, মেঘনাসহ কয়েকটি নদীতে বিভিন্ন স্থানে ভেসে উঠছে লাশ।তীব্র স্রোতের কারণে নদীতে ভেসে লাশ সমুদ্রে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার পর্যন্ত ভোলা সদর ও চাঁদপুরের হাইমচরের মেঘনায়, শরীয়তপুরে পদ্মায় এবং বরিশালের ছোট কালাবদর ও মেঘনা নদী থেকে ২৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, পরিচয় জানার পর ১২ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিডিনিউজ