উত্তাল পদ্মার খাদে পিনাক-৬!

pinakDপদ্মায় অনুসন্ধানকারী কান্ডারী ২ থেকে ফিরে: উত্তাল পদ্মায় নিখোঁজের চারদিন পরও পাওয়া যাচ্ছে না পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি। তবে অনুসন্ধানকারী নৌবাহিনী দলের অনুমান ডুবে যাওয়া স্থান থেকে অনেকদূর চলে গেছে লঞ্চটি। ফলে বার বার অনুসন্ধান চালিয়ে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা।

চারদিন থেকে নৌবাহিনীর ৩০ জনের অনুসন্ধানকারী টিম কাজ করছে। মূল দায়িত্বে রয়েছেন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম। আর সার্বক্ষণিক অনুসন্ধানকারী জাহাজ কান্ডারী-২ অবস্থান করে অনুসন্ধান করছেন হাইড্রোগ্রাফার বিশেষজ্ঞ ও নৌবাহিনীর কমান্ডার মনজুর আহমদ।

ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘লঞ্চটি যেহেতু কাঠের তৈরি ছিলো তাই এটি পানির গভীরে গেলে পাতলা হয়ে যাবে। পাতলা হলে প্রবাহমান পানির সঙ্গে স্থান বদলে ফেলবে।

অনুসন্ধানে অংশ নেয়া চট্রগ্রাম পোর্টের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মনজুর আহমদ জানান, ‘সাব বটম প্রোফাইলার’ নদীর তলদেশে মাটির গভীরে পুতে থাকা কোন বস্তুর সন্ধান দিতে পারে। এই যন্ত্রটি গ্রাফ চিত্রের মাধ্যমে সংকেত পাঠানোর পর বিশ্লেষণ করেই কোন কিছুর সন্ধান মেলে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিনভর যন্ত্রটি সম্ভাব্য স্থানগুলোতে ফেলে এরকম কোন কিছু পাননি।

গ্রাফ চিত্র বিশ্লেষণ করে এই হাইড্রোগ্রাফ বিশেষজ্ঞ বলছেন, ‘যে স্থানে লঞ্চ ডুবেছে বলে ধরা হচ্ছে তার আশপাশে প্রচুর খাদ আছে। পদ্মার এই খাদগুলো এতই গভীর যে অনুসন্ধানের দু’টি যন্ত্র দিয়ে এই খাদে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, গ্রাফ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে খাদ গুলোর গভীরতা ১০ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত। এ অবস্থায় খাদে গিয়ে আটকে থাকতে পারে লঞ্চটি।

প্রসঙ্গত, লঞ্চ ডুবির দিন থেকেই বাউন্ডারী করে সাইড স্কেন সোলার দিয়ে হারানো লঞ্চটির অনুসন্ধান তৎপরতা চলছে। বৃহস্পতিবর ‘সাব বটম প্রোফাইলার’ ব্যবহার করেও নিখোঁজ লঞ্চটির কোন খোঁজ মিলছে না।

অন্যদিকে লঞ্চটির সন্ধান পাওয়া মাত্র উদ্ধার তৎপরতা লেগে যেতে পদ্মাতীরে মাওয়াঘাটের অদূরে অপেক্ষা করছে রুস্তম ও নির্বাক। আর শুক্রবার যোগ হতে পারে অনুসন্ধানকারী আরেকটি জাহাজ জরিপ-১০।

এদিকে পদ্মায় এ পর্যন্ত পাওয়া গেল ৩৩ টি লাশ। এদের মধ্যে ১৭ জনের পরিচয় জানার পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসন।

গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে কাওড়াকান্দি থেকে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাওয়া ঘাটে যাওয়ার পথে লৌহজং ক্রসিংয়ে লঞ্চ এমএল পিনাক-৬ ডুবে যায়। এরপর থেকে লঞ্চটির আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। লঞ্চ ডুবির সঙ্গে সঙ্গে ১১০ জনকে উদ্ধার করা হয়।

এরপর স্বজনদের অভিযোগ অনুসারে তৈরি করা নিখোঁজদের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী এখনো ১৩৭ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর