লঞ্চের খোঁজ নেই চতুর্থ দিনে, লাশের সংখ্যা ৩১

PinakOvijan2‘অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ/ কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পণ…।’ পদ্মার বুকে ডুবে যাওয়া ‘পিনাক-৬’ খুঁজে চলেছে আরেক ‘কান্ডারি’। কান্ডারি নামে অনুসন্ধানকারী এই জাহাজের দিকে চেয়ে আছেন স্বজনহারা মানুষেরা।

‘কান্ডারি’ নিখোঁজ লঞ্চ খুঁজে পেলে খোঁজ মিলবে লঞ্চের সঙ্গে ডুবে যাওয়া লাশের। কিন্তু উদ্ধারকারী এই কান্ডারি পদ্মার তীরে আসে আর ফিরে যায়। খোঁজ আসে না পিনাক-৬ লঞ্চের। অনুসন্ধান অভিযান যেন রয়ে গেছে সেই শূন্যের কোঠায়।

উত্তাল পদ্মার বুকে দুপুরের কড়া রোদ। কখনও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। কখনও নদীর উপর আছড়ে পড়ছে উত্তাল ঢেউ। সেই ঢেউ মাড়িয়ে ফায়ার সার্ভিসের স্পিডবোর্ড খুঁজে ফিরছে লাশ। আর অনুসন্ধানকারী কান্ডারি খুঁজছে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে উদ্ধার করতে প্রস্তুত রয়েছে ‘নির্বিক’ আর ‘রুস্তম’ নামে আরও দুটি জাহাজ। এছাড়াও আসছে ‘জরিপ-১০’। শুক্রবার জরিপ-১০ থেকে অনুসন্ধান শুরু হবে।

এদিকে নদীর সব জায়গায় তল্লাশি করছে নৌবাহিনী। শুরুর দিন থেকে সাইড স্ক্যান সোলার দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কোনো সন্ধান মেলেনি পিনাক-৬ এর। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রথমবারের মতো লঞ্চ খুঁজতে শুরু করে নৌবাহিনীর ‘সাব বটম প্রফোইলার’।

চুতর্থ দিনের সূর্য পশ্চিমে হেলে গেছে। এখনও থামেনি উদ্ধার তৎপরতা, কিন্তু তাতেও মিলছে না ডুবে যাওয়া লঞ্চটি। কান্ডারি ভেসে চলেছে মাঝ নদীতে।

পদ্মার তীর জুড়ে স্বজনদের ভিড় সান্ত্বনার কোনো বাণী মানছে না। তারা চায় না ক্ষতিপূরণ; ফিরে পেতে চায় প্রিয় স্বজনদের লাশ। নিখোঁজ স্বজনদের কেউ কেউ নিজেরাই স্পিডবোর্ড নিয়ে নেমে যাচ্ছেন পদ্মায়। প্রশাসনের তৎপরতায় তারা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।

এদিকে চুতর্থ দিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১-এ। এর মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে ১৬টি লাশ। নিখোঁজ আছেন ১৩৪ জন। ১৪টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এখনও। বরিশালে উদ্ধার হওয়া আরও দুটি লাশ এ তালিকায় দেখায়নি মাওয়াঘাটে স্থাপন করা কন্ট্রোল রুম। তাদের হিসাবে লাশের সংখ্যা ৩১।

পদ্মায় নিখোঁজ লঞ্চের খোঁজে আসা কান্ডারি-২ এর নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০ জনের অনুসন্ধানকারী দল অনুসন্ধান কাজ অব্যাহত রেখেছে।

ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম মনে করেন, ডুবে যাওয়া স্থানে আর নেই লঞ্চটি। তাই তারা অনুসন্ধান এরিয়া বাড়িয়ে নিয়েছেন। সম্ভাব্য একটি পয়েন্ট চিন্তিত করে এখন অনুসন্ধান কাজ চলছে।

তিনি জানান, নিখোঁজ লঞ্চটি পুরোটা কাঠের তৈরি। তাই নদী গর্ভে গিয়ে লঞ্চটি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে ফেলেছে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটি খুঁজতে ‘সাব বটম প্রফোইলার’ দিয়ে প্রাপ্ত গ্রাফচিত্রের জরিপ বিশ্লেষণ করছেন চট্রগ্রাম পোর্টের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. মনজুর আহমদ।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, ‘গ্রাফচিত্রের মাধ্যমে নদীর তলদেশে পলি মাটিকে কোনো কিছু আটকে গেলে সেটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। জরিপ গ্রাফচিত্র বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত পলি মাটি ও বালির স্তর ছাড়া লঞ্চের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই অব্যাহত আছে অনুসন্ধান তৎপরতা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর