কাজ শুরু করেছে কাণ্ডরি- ২

pinakmawadমিলেছে ২১ মৃতদেহ, হস্তান্তর ৮
তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এর ২১ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদল বুধবার রাত ৯টায় এ তথ্য জানান।

ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে শনাক্তকারী জাহাজ ‘কাণ্ডারি-২’। এ তথ্য নিশ্চিত করে ‘কাণ্ডারি-২’ এর কমান্ডার ও চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ১২টায় এটি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে। এরিমধ্যে তারা অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার। সন্ধ্যায় নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান জানান, রাত ১০টার দিকে ‘কান্ডারি’ ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।

রাত ১১টায় বিআইডব্লিউটিএ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান দ্য রিপোর্টকে জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘কান্ডারি-২’ মাওয়ার লঞ্চডুবির স্থান থেকে এখনও ২০ মাইল দূরে অবস্থান করছে। জাহাজটি পৌঁছালে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা যাবে।

সোমবার লঞ্চ ডোবার দিন একটি, মঙ্গলবার দুটি এবং বুধবার বাকি মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, ভোলা ও বরিশালের নদীতে তা ভেসে ওঠে।

উদ্ধার হওয়া ২১ মৃতদেহের মধ্যে ৮টি শনাক্ত করা হয়েছে। ১৩টি এখনও শনাক্ত করা যায়নি। শনাক্ত করা মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লঞ্চডুবির ওই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৩৭ জন।

শনাক্ত করা মৃতদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসিকান্দি গ্রামের হায়দার শিকদারের মেয়ে ও ঢাকার মতিঝিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ইমা আক্তার (১৮), মাদারীপুর জেলার শিবচরের নূরুল হকের মেয়ে হিরা (২২), জব্বার প্রধানের মেয়ে লাকি (২৫), আলম শেখের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৮), নূরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে মিজানূর (৩৫), ফরিদপুরের নগরকান্দার আব্দুল হাই খলিফার মেয়ে রিতা আক্তার (২৫), ঝালকাঠি জেলার কাকরাদিয়ার লুৎফুর রহমানের ছেলে ফাহাদুল করিম (২৪) এবং ফরিদপুরের নগরকান্দার রিয়াজুল।

মাওয়া ঘাটে স্থাপিত মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সাব-কন্ট্রোল রুমে নিখোঁজদের বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুজিবুর রহমান এ তথ্য জানান।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার মঙ্গলবার বলেছিলেন, বুধবার সকাল ১১টায় ‘কান্ডারি’ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাবে।

বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, বিকেল ৪টা থেকে ৫টার দিকে পৌঁছবে কান্ডারি। কিছুক্ষণ পরে আবার সময় পাল্টিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘কান্ডারি’ আসতে বিকেল ৬টা বাজবে। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘কান্ডারি’র দেখা মেলেনি।

উল্লেখ্য, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া ঘাটমুখী লঞ্চ পিনাক-৬ মাওয়া ঘাটের কাছাকাছি এসে ডুবে যায়। এতে তিন শতাধিক যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩৯ জনের নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেয়েছে প্রশাসন।

দ্য রিপোর্ট