‘ব্যর্থতা স্বীকার ও পদত্যাগের সংস্কৃতি নেই’

Launch-Accident-hoনৌপথে মৃত্যুর মিছিল
গত ১৫ মে মেঘনা নদীতে এমভি মিরাজ ডুবে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারানোর তিন মাসের মাথায় আবারও লাশের মিছিলের অপেক্ষায় পদ্মা পাড়ের মানুষেরা। এবারের ঈদযাত্রার প্রথম দিকে বড় কোনো লঞ্চ দুর্ঘটনা না ঘটলেও গত সোমবার রাজধানীগামী ঈদ ফেরত অতিরিক্ত যাত্রীবাহী পিনাক-৬ লঞ্চটি পদ্মায় ডুবেছে।

দুর্ঘটনার পঁয়ত্রিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১২৯ যাত্রীর কোনো খোজঁ মেলেনি। লাশ পাওয়া গেছে তিন জনের। এত বড় একটি দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পরও কেউ দায় স্বীকার করেননি। প্রাথমিকভাবে শাস্তিও হয়নি কারো।

দীর্ঘদিন স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়ে আন্দোলন করছেন গবেষক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এ সব ঘটনায় সরকারি পর্যায় থেকে এতো গাফিলতি থাকার পরও কোনো মন্ত্রীকে কখনো পদত্যাগ করতে দেখা যায়নি। এবারও যে করবেন না তা সহজেই অনুমেয়। দায় স্বীকার ও পদত্যাগের সংস্কৃতি আমাদের দেশে নেই। ত্যাগ বলে কোনো শব্দ তাদের অভিধানে আছে কিনা আমার সন্দেহ। এ সব দুর্ঘটনা হলো সার্বিক অব্যস্থাপনা ও অদক্ষতার ফল। আর অব্যবস্থাপনার মূলে রয়েছে দুর্নীতি।’
PinkLashK2
উল্লেখ্য চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর সে দেশের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি নৌ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোস্ট গার্ড বাহিনীকেও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল লঞ্চ মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম হিসেবে ‘যান্ত্রিক নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের’ কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রতি বছরই নৌ-পরিবহনে শত শত মানুষ প্রাণ হারালেও ন্যূনতম দায় স্বীকার করে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দূরে থাক দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার পদত্যাগ বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রাথমিক পদক্ষেপ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ইসলাম বলেন, তদন্তের পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহা খন্দকার।
PinkLashK1
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের ‘মিশন’ও ‘ভিশন’-এ উল্লেখ করেছে, ‘অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন এবং আধুনিক যাত্রীসেবা’ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। প্রায় একই মিশন ও ভিশনের কথা উল্লেখ করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ-বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)।

নৌপথে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একটি বড় অংশ বরিশাল বিভাগের। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ দীর্ঘদিন নিরাপদ নৌপথের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সংগঠনটির সভাপতি শান্তি দাস দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এই রুটে গত ৩০ বছরের মধ্যে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। নৌ মন্ত্রণালয় এবং নৌ মন্ত্রীর ব্যর্থতাও আছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন চাই। যাতে এমন মর্মান্তিক অবস্থায় মুখোমুখি না হতে হয়।

দ্য রিপোর্ট

Leave a Reply