চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বিলীন পদ্মায়!

PinakHiraপদ্মায় লঞ্চডুবি
জেলার শিবচরের মেধাবী দুই বোন নুসরাত জাহান হিরা (২০) ও ফাতেমাতুজ জোহরা স্বর্ণা (১৮)। তাদের ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। এ জন্য হিরা ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকার শিকদার মেডিকেল কলেজে। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হলো না।

পদ্মার লৌহজং চ্যানেল এলাকায় সোমবার ডুবে যাওয়া এমভি পিনাক-৬ এর যাত্রী ছিলেন দুই বোন। সঙ্গে ছিলেন অপর খালাতো বোন জান্নাত নাঈম লাকী। লঞ্চডুবির পর সোমবারই হিরার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ রয়েছেন ফাতেমাতুজ জোহরা স্বর্ণা ও জান্নাত নাঈম লাকী।

স্বর্ণা শিবচরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি জিপিএ-৫ পেয়ে ভর্তি হন ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ পাবলিক কলেজে।

বাড়িতে ঈদ উদযাপন শেষে তিন বোন এমভি পিনাক-৬ লঞ্চে ঢাকায় ফিরছিলেন। কিন্তু তাদের আর ঢাকায় ফেরা হলো না। হলো না চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ। পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে গেল তাদের স্বপ্ন।

মেয়েদের হারিয়ে পাগল প্রায় বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন। নির্বাক তাকিয়ে থাকা ছাড়া বাবা-মায়ের আর যেন কিছুই করার নেই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়েদের চিকিৎসক বানাবেন। সে লক্ষ্যে স্কুল জীবন থেকে কঠিন পরিশ্রম করেছেন তারা। লেখাপড়া ও রেজাল্টে দুই বোন ছিলেন সবসময় প্রথম সারিতে।
PinakHira
কিন্তু বাবা-মায়ের সকল স্বপ্নের মৃত্যু ঘটলো মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে। ঈদ শেষে মেয়েদের নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন বাবা নূরুল ইসলাম। পেশায় দলিল লেখক বাবার সকল স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল পদ্মার পানিতে।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া যাওয়ার পথে মাঝ পদ্মায় ডুবে যায় এমভি পিনাক-৬। লঞ্চডুবির পর বাবা বেঁচে ফিরলেও তিন বোন হারিয়ে যান পদ্মার তীব্র স্রোতে। লঞ্চডুবির প্রায় চার ঘণ্টা পর মেডিকেল ছাত্রী হিরার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় পদ্মার পাড়ে। রাত ১০টার দিকে শিবচরের নিজ বাড়িতে হিরার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিখোঁজ স্বর্ণার সহপাঠী সাজিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়ে হিসেবে স্বর্ণা ছিল অসাধারণ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। আমাদের বান্ধবীদের মধ্যে খুবই মিল ছিল। এভাবে তাকে হারানো মেনে নিতে পারছি না।’

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন শিবচরে হিরাদের বাড়িতে গেলে সর্বত্র শোকের মাতম দেখা যায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কোন মানসিকতা তাদের ছিল না। নিখোঁজ অপর দুই মেয়ের মৃতদেহ খুঁজে পেতে এখন পদ্মার পাড়ে ঘুরে ফিরছেন বাবা ও আত্মীয়-স্বজনেরা।

দ্য রিপোর্ট