মির্জা সাইফুরের দুর্নীতিতে ডুবলো পিনাক-৬!

mirjকাওড়াকান্দি থেকে মাওয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝ পদ্মায় প্রায় তিন শ যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটির নকশা অনুমোদিত ছিল না। এমনকি ছিল না স্টাবিলিটি বুকলেটও। কিন্তু তারপরও সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই ডক সনদ ও ভুয়া জরিপ সনদ দেয়া হয়েছিল লঞ্চটিকে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটি সর্বশেষ জরিপ করেছেন সদরঘাট বন্দরের প্রকৌশলী ও জরিপকারক মির্জা সাইফুর রহমান। যার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার হাত দিয়ে পুরাতন অনেক লঞ্চ সাময়িক মেরামতের পর নতুন হিসেবে সনদ পেয়েছে। এছাড়া সরেজমিনে জরিপ না করেও উৎকোচের বিনিময়ে জরিপ সনদ দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) চলছে অনুসন্ধান। তবে তদন্তে নাকি গতি আসছে না সেভাবে। কোথাও যেন একটা অদৃশ্য সুতোর টান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মঈনুদ্দিন জুলফিকার গত ২০০৩ সালের ৮ নভেম্বর পিনাক-৬ লঞ্চটির নিবন্ধন দেন। সর্বশেষ গত ১ মে মির্জা সাইফুর দেন জরিপ সনদ। লঞ্চটির গ্রোসটনের সঙ্গে জরিপ সনদের কোনো মিল নেই বলেও জানা গেছে।
mirj
সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া ঘাটে আসার সময় ডুবে যায় পিনাক-৬ লঞ্চটি। নৌযানটিতে প্রায় তিনশ যাত্রী ছিল। ¯্রােতের টান সহ্য করতে না পেরে লঞ্চটি মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক ড. এস এম নাজমুল হক আহবায়ক এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সফিকুর রহমানকে এ কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, মির্জা সাইফুরের দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত চলছে। তিনি এল বোরহান কবির (প্রাক্তন এমভি জয়খান-৫) এবং এমএল রুমা (প্রাক্তন এমএল বাদল) সহ বেশ ক’টি যাত্রীবাহী ও কার্গো নৌযান নিয়মবহির্ভূত নিবন্ধন দেন। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ বছরের ১৭ জুলাই পর্যন্ত তিন হাজার ৪৫ টি নৌযান জরিপ করেছেন মির্জা সাইফুর রহমান। এর মধ্যে নতুন ২৭১টি। হিসাবে দেখা যায় প্রতি কর্মদিবসে তিনি গড়ে ১০ টি নৌযান জরিপ করেছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে জরিপের সময় নৌযানগুলোর অবস্থান ছিল আরিচা, মাওয়া, সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, গাবতলী, মেঘনা ঘাট ও ভৈরবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তিনি কীভাবে এত জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করে জরিপ সনদ দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়াই স্বাভাবিক।
এর আগে গত মে মাসে মুন্সিগঞ্জে এমভি মিরাজ-৪ নামে একটি লঞ্চ ডুবে ৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।

ত্রুটিপূর্ণ এ নৌযানটি সর্বশেষ জরিপের দায়িত্বে ছিলেন মির্জা সাইফুর রহমান। ওই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক এ এফ এম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন অনুসন্ধান শেষে গত ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। দুর্ঘটনার জন্য সাইফুর রহমানকে ‘অংশত’ দায়ী করা হয়।

জানতে চাইলে মির্জা সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে। একটি মহল আমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব কাজ করছে। এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।’ দুদকের অনুসন্ধানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘দুদক যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পায় তবে অনুসন্ধান করুক। আমার কোনো সমস্যা নেই।’

বিডিলাইভ