পদ্মায় লঞ্চডুবি: দুর্ঘটনা না হত্যা!

pinakDমাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটের পদ্মায় এমএল পিনাক-৬ লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার চাইতে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ায় ডুবে গেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্ট মালিকের প্রভাব বিস্তার ও কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফখরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, লঞ্চটি চলাচলের ক্ষেত্রে দু’টি শর্ত দেওয়া হলেও কোনোটিই মানেনি। এমনকি আবহাওয়ার সতর্কবার্তা বহাল থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে লঞ্চটি চলাচল করেছিল।

সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর সূত্রে আরো জানা যায়, সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এমএল পিনাক-৬-এর বার্ষিক সার্ভে (ফিটনেস পরীক্ষা) করে এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট দেয়।
pinakD
তবে ফিটনেস প্রদানকালে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার অধিদফতর ঢাকা সদরঘাট কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মির্জা সাইফুর রহমান লঞ্চটি দিনের বেলা শান্ত পানিতে সর্বোচ্চ ৮৫ জন যাত্রীবহন করতে পারবে এবং আবহাওয়া অধিদফতর, সমুদ্রবন্দর অথবা নৌবন্দরে কোনো ধরনের সতর্কতা সংকেত থাকলে চলাচল করতে পারবে না বলে দু’টি শর্ত দিয়েছিলেন।

কিন্তু লঞ্চটির মালিকপক্ষ নিয়মকানুনের কোনো তোয়াক্কা না করেই জুলাই মাস থেকে পদ্মায় যাত্রী পারাপার করে আসছিল।

সোমবার ৮৫ জন যাত্রী বহনকারী লঞ্চটি প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিলে তা ঢেউয়ের তোরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী প্রাণে বেচেঁ যায়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক যাত্রী।

এর আগে, গত ৩১ জুলাই সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবে আটজনের মৃত্যু হয়। তার দু’দিন আগেই কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে নৌভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ১১ জনের।

এছাড়া, গত ১৫ মে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার দৌলতপুরের কাছে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি মিরাজ-৪ নামে একটি লঞ্চ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নদী থেকে মোট ৫৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পিনাক-৬ লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর প্রথমে মাদারীপুরের নুসরাত জাহান হীরা এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ১৯ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও আর কোনো লাশ উদ্ধার করা যায়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে পুলিশ প্রশাসন বাধা দিলেও লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা বাধা উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির পর মালিক সমিতির কোনো নেতাকে ঘাটে দেখা যায়নি। এছাড়া মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি তারা।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সরকারি হিসেবে নিখোঁজ রয়েছে ১১৮ জন।

শীর্ষ নিউজ