পদ্মায় উদ্ধার অভিযান শুরু

PinakOvijan2পদ্মা নদীর লৌহজং চ্যানেলে ডুবে যাওয়া এমভি পিনাক-৬ লঞ্চটি এবং নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে এ অভিযান শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ আগে অভিযানে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’।

এর আগে সোমবার রাতে স্থানীয় প্রশাসন, ‌র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয় সভায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উদ্ধারকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত দ্য রিপোর্টের বিশেষ প্রতিনিধি এম এ কে জিলানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
PinakOvijan2
ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চের উদ্ধারকাজে ‘গাফিলতির’ অভিযোগে পদ্মার তীরে নিখোঁজদের স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা মঙ্গলবার সকালে উভয় তীরে কোনো লঞ্চ ভিড়তে বা ছাড়তে বাধা দেন।

পরে তারা ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরিদেরও সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। ঘটনাস্থলের ফুটেজ ধারণ করতে গেলে একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার ধাওয়ায় সময় টেলিভিশনের এক ক্যামেরাপারসন আহত হন।
PinakOvijan2a
সোমবার সন্ধ্যার আগে নৌবাহিনীর একটি দল চারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল উদ্ধার তৎপরতায় নামে। কিন্তু তারাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাবে ব্যর্থ হয়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক আবদুস সালাম সোমবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে দ্য রিপোর্টকে জানান, ২-৪ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল শনাক্ত করার কাজ শুরু হবে। এর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা চালানো যাচ্ছিল না।

পরে তিনি সোমবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে জানান, ঘটনাস্থল চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্ধারকাজ স্থগিত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় জনগণের আন্দোলনের মুখে ফায়ার সার্ভিসের দুটি জাহাজ ঘটনাস্থল শনাক্তকরণে বের হয়। অন্যদিকে নেভি ও বিআইডব্লিউটিএর কোনো উদ্ধার তৎপরতা ছিল না। গত রাতে নেভি ও বিআইডব্লিউটিএর দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলে এলেও মাঝনদীতে নোঙ্গর করে ছিল।
PinakOvijan2b
লঞ্চডুবির খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘অগ্নিশাসক’। রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’।

এমভি পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পদ্মা নদীর লৌহজং চ্যানেল এলাকায় ডুবে যায়। তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে পড়ে লঞ্চটি ডুবে যায় বলে উল্লেখ করা হলেও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চডুবির অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ করেছেন উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

লঞ্চডিুবিতে বেঁচে যাওয়া যাত্রী ফরিদপুরের রফিক মিয়া জানান, লঞ্চটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়েছিল। দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ সময় অর্ধশতাধিক যাত্রী অন্যান্য নৌযানের সহায়তায় তীরে পৌঁছতে সক্ষম হন।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে হিরা (২০) নামে এক তরুণী রয়েছেন। তার বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। মৃত অপরজনের বাড়িও শিবচরে। তার নাম হাসুয়া বেগম (৫৫)। মো. হান্নান নামে এক স্বজন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তার মৃতদেহ নিয়ে যান।

দ্য রিপোর্ট