লাইফ জ্যাকেটে আগ্রহ ছিল না যাত্রীদের

HelicopterTনৌপথে ঈদ যাত্রা
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদে পদ্মা পাড়ি দিতে মাওয়া-কাওরাকান্দি ও মাওয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে যাত্রীদের তেমন আগ্রহ ছিল না। এ ছাড়া স্পিডবোটগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। মাওয়া থেকে মাদারীপুরের কাওরাকান্দি ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি নৌপথে যাত্রীদের পারাপারে হিমশিম খায় নৌযানগুলো। তাই সরকার বা কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে দায়িত্ব পালনে যেমন সচেষ্ট হয়, তেমনি কিছু পদক্ষেপও নিয়ে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের এক সপ্তাহ আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মাওয়া থেকে এ দুই নৌপথে স্পিডবোটগুলোতে যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সি-বোট মালিক সমিতি ও ঘাট পরিচালনা কমিটি মন্ত্রীর নির্দেশ পালনে সচেষ্ট হয়। নৌপথে চলাচলরত পাঁচ শতাধিক স্পিডবোটের জন্য লাইফ জ্যাকেট কিনতে তারা ছুটে যায় ঢাকায়।

কিন্তু ঈদের মাত্র কয়েক দিন আগে বিপুলসংখ্যক লাইফ জ্যাকেট সংগ্রহ করতে পারেনি তারা। মাওয়া সি-বোট ঘাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ হোসেন বলেন, ‘অতি অল্প সময়ে নোটিশ দেওয়ায় আমরা বিপুলসংখ্যক লাইফ জ্যাকেট সংগ্রহ করতে পারিনি। মাত্র দুই শতাধিক জ্যাকেট ক্রয় করতে পেরেছি। যা পেয়েছি তা স্পিডবোটগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি করে দিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছি।

কিন্তু জ্যাকেটগুলো ব্যবহারে যাত্রীদের তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না।’ঈদের আগে ও পরে মাওয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, স্পিডবোট, ট্রলার ও লঞ্চে নদী পার হতে যাত্রীদের ঢল নামে। সবচেয়ে বেশি যাত্রীর চাপ ছিল লঞ্চে। যারা অতি অল্প সময়ে নদী পার হয়ে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছতে চেয়েছে, তারাই কেবল বেশি টাকা ব্যয় করে টিকিট কিনে স্পিডবোটে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। উপচে পড়া ভিড় ছিল স্পিডবোটে। কোনো কোনো স্পিডবোটে আসন সংখ্যার বেশিও যাত্রী পার হতে দেখা গেছে। প্রতিটি স্পিডবোটেই বয়া ছিল। কিন্তু ছিল না পর্যাপ্তসংখ্যক লাইফ জ্যাকেট। যাও ছিল, সেগুলো ব্যবহারে যাত্রীদের তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। কার আগে কে স্পিডবোটে উঠবে এ নিয়েই যাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল বেশি।

গত সোমবার নৌপথে একটি স্পিডবোটের তলা ফুটো হয়ে ডুবতে শুরু করলে যাত্রীদের চিৎকারে কাছাকাছি থাকা অন্য স্পিডবোটগুলো তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু এ স্পিডবোটে তেমন কোনো বয়া বা লাইফ জ্যাকেট ছিল না।

মুন্সীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট পরতে অভ্যস্ত নয় বলেই তাদের মধ্যে আগ্রহ কম ছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে চাপ অব্যাহত আছে। বিআইডাবি্লউটিএর চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার বলেন, ‘যাত্রীরা যেন লাইফ জ্যাকেট পরেই স্পিডবোটে পদ্মা পাড়ি দেয় সেটা নিয়েই এখন কাজ শুরু করেছি।’

কালের কন্ঠ