আত্মসাতকৃত টাকা নিয়েও হিটলার বহাল তবিয়তে

crime3হাতেনাতে ধরা পরে আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার পড়েও নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ওদিকে চাপের মুখে আত্মসাতকৃত টাকার কিছু অংশ ব্যাংক একাউন্টে জমা হলেও শালিস বৈঠকে আদায় হওয়া ২লাখ নগদ টাকা নিয়ে শুরু হয়েছে তেলেসমাতি।

জানা যায়, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় কর্মরত) হিটলারুজ্জামান হিটলার অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক বদলী, স্কুল লেভেল ইমপ্র“ভম্যান্ট প্রজেক্টের অর্থ, উপবৃত্তি, অফিসের অনুসাঙ্গিক খরচ, কম্পিউটার মেরামত ও সরঞ্জাম ক্রয়সহ অন্যান্য খাতের মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করা ছাড়াও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার শিক্ষক কর্মচারীদের সম্মানী ভাতার ১লাখ ৯হাজার ৮৩৬ টাকা, ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভম্যান্ট প্রজেক্টের বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা করে বিতরণের সময় ১৬৭টি বিদ্যালয় থেকে ভ্যাটের নামে চার লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করে সাড়ে চার শতাংশ হিসেবে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৭০০ টাকা ভ্যাট জমা করে বাকী ১লাখ ৭২ হাজার টাকা পকেটস্থ করেন।

কোন দরপত্র আহ্বান ছাড়াই প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষার খাতাসহ অব্যবহৃত সরঞ্জাম বিক্রি করে মোটা অংকের টাকাও পকেটে পুড়েন তিনি। চতুর ওই কর্মকর্তা নীলফামারীতে যোগদানের মাত্র ৩ মাসের মাথায় অত্যন্ত গোপনে বদলী হন, মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অফিসের কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেন। এদিকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়েই কর্মস্থল ত্যাগ করে ওই কর্মকর্তা ছাড়পত্র ছাড়াই টঙ্গীবাড়ীতে যোগদান করতে না পেরে গত ১৮জুন নীলফামারী ফিরে আসেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেদ আলী ও ডজন দুয়েক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে অনেকটা চাপে পড়েই তার নানা অপকর্মের কথা স্বীকার করেন এবং ঐদিন বিকেলে সোনালী ব্যাংক, নীলফামারী শাখার দুটি হিসাব নম্বরে ১লাখ ৫৯হাজার ৮৩৬ টাকা জমা করেন এবং ভ্যাটের নামে আত্মসাৎ করা ১লাখ ৭২হাজার ৩০০টাকাসহ অন্যান্য খাত থেকে আত্মসাতকৃত আরো প্রায় ২লাখ টাকা আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সরকারী ফান্ডে জমাদানের অঙ্গীকার করেন। সে সময় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শুরু হয় নানা ফন্দি-ফিকির।

অসাধু ওই কর্মকর্তার হয়ে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং তার ঐ অপকর্ম ও দুর্নীতিকে ছায়ার মতো আগলে রাখা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা। কিন্তু ঘটনার পর দিন বৃহস্পতিবার তাকেও পঞ্চগড়ে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। এদিকে অনেক প্রভাবশালী পত্রিকার প্রতিনিধিরাও বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও শালিস বৈঠকে অঙ্গীকার করা বাকী ২লাখ টাকার বর্তমানে কোন হদিস মিলছেনা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকের পরপরই ১লাখ ৯১হাজার টাকা জনৈক কর্মকর্তার হাতে গুজে দিয়ে সেদিনই ছাড়পত্র নিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান হিটলার নীলফামারী ত্যাগ করেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অপর দিকে নারী কেলেঙ্কারী থেকে শুরু করে বছরের পর বছর অফিসের রুম বাসা হিসেবে এবং অফিসের গাড়ী যত্রতত্র ব্যাবহার, শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসাদাচরন, বদলী বাণিজ্য, কথায় কথায় শিক্ষকদের হয়রানী, বিভিন্ন তহবিলের টাকা আত্মসাত, অফিসকে দালালের আখড়ায় পরিনত করার খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশের পর ২৬জুনের মধ্যে তাকে পঞ্চগড় জেলায় অতিরিক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার ৬ই জুলাই পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে তার ওই বদলী আদেশ বাতিলের জোর তদবিরে ব্যাস্ত রয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা, রংপুর বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা ও হিটলারুজ্জামান হিটলারের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।

হিটলারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা, জানাতে চাইলে তিনি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানালেও কাকে প্রধান করে কমিটি গঠন এবং কতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে তা জানতে পারেননি।

বার্তা২৪