হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার হচ্ছে না

haসাক্ষী আসে না
সাক্ষী না আসায় ঝুলে রয়েছে কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম। সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। টানা দুটি নির্ধারিত তারিখে একজন সাক্ষীকেও আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এ মামলায় ৫৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এবিএম বসিরউদ্দিন মিঞা দ্য রিপোর্টকে বলেন, অনেক পুরাতন মামলা তাই সাক্ষীদের খুঁজে পাচ্ছি না। তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও খুঁজে পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্রে সাক্ষীদের যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সে ঠিকানায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মামলাটি খুব দ্রুত শেষ করে দেব।

ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু দ্য রিপোর্টকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ তাই সাক্ষীদের আদালতে এনে সাক্ষ্য নিয়ে খুব দ্রুত মামলাটি শেষ করা উচিত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফারুক আহম্মদ বলেন, অনেক পুরাতন মামলা তাই সাক্ষীদের খুঁজে পাচ্ছে না রাষ্ট্রপক্ষ। তবে রাষ্ট্রপক্ষের উচিত সাক্ষীদের খুঁজে বের করে সাক্ষ্য নিয়ে মামলার কার্যক্রম শেষ করা।

এ মামলাটি বর্তমানে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূইয়ার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

ওই হামলার পর তিনি ২২ দিন সিএমএইচ-এ ও ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসারত ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট ড. হুমায়ুন আজাদ মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর সিআইডির পরিদর্শক কাজী আবদুল মালেক জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, নুর মোহাম্মাদ সাবু ওরফে শামীম, মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় অভিযোগ থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের নাম মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। এ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পাঁচ দফায় ১২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

চার্জশিট থেকে বাদ যাওয়া অপর চার আসামি হলেন, আবু আব্বাস ভূঁইয়া, গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা মাহমুদ, আবদুল খালেক গবা ওরফে টাইগার ও শফিক উল্লাহ সাদ।

সাক্ষ্য গ্রহণের এক পর্যায়ে মামলার বাদী ও হুমায়ুন আজাদের ভাই মো. মঞ্জুর কবির ২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন করলে ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান হুমায়ুন আজাদকে হত্যার অভিযোগ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়।

২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূইয়া বর্তমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এ মামলায় জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক ও আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ, নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু (পলাতক) ও সালাহউদ্দিন (পলাতক)।

দ্য রিপোর্ট