শ্রীনগরে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ: ১বছরেও সন্ধান মিলেনি

riponআরিফ হোসেন: শ্রীনগরে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করার এক বছর পরও দিন মজুর রিপনের (২৪) কোন সন্ধান মিলেনি। গত এক বছর ধরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার ধরণা দিয়েও রিপনকে ফেরত পায়নি তার পরিবার।

সর্বশেষ আদালতে মামলা করার পরও ছেলেকে ফেরত না পেয়ে রিপনের মা ষোলঘর পাকিরাপাড়া গ্রামের সুফিয়া বেগম (৫০) এখন শয্যাসায়ী। তার অন্য ছেলেরাও বিয়ের উপযুক্ত ভাইটির সন্ধান না পেয়ে পাগল প্রায়। এদিকে মামলার প্রধান আসামী পলাতক থাকলেও অন্য আসামীরা জামিনে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রিপনদের প্রতিবেশী আ: সামাদের( ৫৫) মেয়ের জামাই চাদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার লাড়–য়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৩০) শশুড় বাড়ীতে ঘর জামাই হিসাবে বসবাস করত। তাজুল প্রবাস ফেরত রিপনের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ঢাকায় ভাল চাকুরীর প্রলোভন দেখায়।

রিপনের পরিবার বিষয়টি তাজুলের শশুড় আ: সামাদকে জানায়। আ: সামাদ সায় দেওয়ায় ২০১৩ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দাবীকৃত অর্থ পরিশোধ করার পর তাজুল রিপনকে মিরপুর এলাকায় তার ভাগনে ছোট রিপনের (২০) কাছে নিয়ে যায়। তাজুল মোবাইল ফোনে রিপনের মাকে প্রথমে জানায় তাকে ভাল চাকুরি দেওয়া হয়েছে। যখন তখন রিপনের সাথে কথা বলা যাবেনা।

কয়েকদিন পরই সে বাড়ীতে টাকা পাঠাবে। প্রকৃতপক্ষে রিপনকে একটি নির্মানাধীন বিল্ডিং এর লেবার হিসাবে কাজে লাগানো হয়। কাজে যোগদানের ১২-১৪ দিনের মাথায় তাজুল অন্য লেবারদেরকে জানায় রিপন কাজ ছেড়ে চলে গেছে। অপরদিকে সে রিপনের মাকে পুনরায় মোবাইল ফোনে জানায় রিপনের মোবাইল ছিনতাই কারীরা নিয়ে যাওয়ায় রিপন বাড়ীতে যোগাযোগ করতে পারছেনা। কিছুদিন পর তাজুল জানায় রিপন অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে রিপনের পরিবারের সন্দেহ হলে তারা রিপনকে এনে দেওয়ার জন্য তাজুলের শশুড়কে চাপ প্রয়োগ করে। পরে স্থানীয় লোকদের নিয়ে রিপনের পরিবার ঢাকায় গেলে রিপন কোথায় কাজ করতো এবং কোথায় থাকতো এ বিষয়ে তাজুল কোন সদোত্তর দিতে পারেনি। পরে রিপনকে এনে দিবে বলে তাজুল (৩০) তার শশুড় সামাদ (৫৫) ও শ্যালক শরিফ (২২) টালবাহানা করে প্রায় ৫ মাস পার করে দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর চারজনকে আসামী করে অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগ এনে রিপনের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দয়ের করেন। সিআর মামলা নম্বর ২৫০/২০১৩।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ: সালামের কাছে তদন্তের জন্য প্রেরণ করে। ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত পুনরায় শ্রীনগর থানা পুলিশকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটির দতন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মুজিবুর রহমান অধীকতর তদন্ত শেষে ঘটনাটি সত্য বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এতে আদালত তাজুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে ও অন্য আসামীদের জামিন প্রদান করে। তাজুল পলাতক থাকলেও অন্য আসামীরা জামিনে এতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত চাপ প্রয়োগ করছে বলে রিপনের ভাই সুমন অভিযোগ করেন। এত কিছুর পরও দীর্ঘ এক বছরে রিপনের কোন সন্ধ্যান না পাওয়ায় পরিবারটি অনেকটাই ভেঙ্গে পরেছে।