কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ইছামতি নদী

naukaইছামতি নদীর পানি দিন-দিন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এ নদীর মূল উৎস পদ্মা থেকে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর থেকে নদীটি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে মানিকগঞ্জ থেকে আগত কালিগঙ্গা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এক সময় গোয়ালন্দ থেকে রাজধানীতে বড়-বড় লঞ্চ চলাচল করত, এখন সেখানে নৌকাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেনা।

কিছু-কিছু এলাকায় নদীতে একদম পানি নেই আবার কিছু-কিছু এলাকায় হাঁটুপানি থাকলেও কচুরিপানায় ঢেকে আছে। কচুরিপানার পচনে সৃষ্টি হচ্ছে দূর্গন্ধ। এতে বেশ কিছু স্থানে মশার বসতি। ইছামতি নদীর ওপর কার্তিকপুর এলাকায় রাস্তা নির্মাণ করায় লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। কালিয়াখালি এলাকায় বেড়িবাঁধ দেয়ায় ওই পথেও ইছামতি নদীতে পানি আসা বন্ধ।
nauka
এ নদীর তীরে কমপক্ষে চার লাখ লোকের বসবাস। তাদের বেশির ভাগই কৃষক ও জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন। এলাকার বেশির ভাগ হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, উপজেলার নির্বাহী কার্যালয়, অন্যান্য অফিস এমনকি হাসপাতালও নদীর তীরে। রাজধানী থেকে প্রত্যহ যাবতীয় মালামাল এমনকি নির্মাণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নৌকায় বান্দুরা পর্যন্ত আসে। জোয়ার-ভাটায় নদীর পানি অত্যাধিক পরিস্কার ও স্বচ্ছ থাকে কিন্তু ভাটার সময় মালামাল বোঝাই নৌকা স্থানে-স্থানে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকে পানি স্বল্পতা কারনে।

ইছামতির নদীর মাছের গৌরব আর পূর্বের মতো নেই। ইরি ও বোরো ধান ক্ষেতে পানি সেচও হ্রাস পাচ্ছে।
অথচ নদীর পানি গভীর নলকূপের পানির চেয়ে অধিক ফলদায়ক সেচের জন্য। ইছামতি নদীর প্রায় সব খাল অপরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা অদূরদর্শিতায় পরিচয়। যেখানে লাখ-লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে ইছামতিকে বাঁচিয়ে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

এ জন্য বেড়িবাঁধ, সুইস গেট, স্থানে-স্থানে ড্রেজিং এবং খালগুলো সংস্কার করতে হবে। এমনটাই বর্তমান সরকার দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের নিকট মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীর দাবী ।

এবিনিউজ