পুলিশ প্রশাসনের চেইন অব-কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে

yardousভেঙ্গে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনের চেইন অব-কমান্ড। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ প্রশাসনের লোকদের সামনেই চলেছে প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, অনৈতিক কার্যকলাপ, রাহাজানি, আগ্নেয়াস্ত্র কেনা-বেচা ও শক্তির মহরা। সংঘটিত এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশই পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে সদর থানার ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান, (এস.আই) মো. মনির হোসেন ও তার সহধর্মিনি (এস.আই) রিয়া বেগম এবং বর্তমান সরকারি দলের চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের এবং ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসানের নির্দেশ মানছেন না সদর থানায় কর্মরত (এস.আই) ও কনষ্টেবলরা। এসব তথ্য জানিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্তাব্যক্তিগণ। থানায় রুজুকৃত মামলার তদন্ত ও আসামীদের গ্রেপ্তারে পাঠালে তদন্তকারি কর্মকর্তা ওই দ্বায়ীত্ব পালন না করে স্ব-স্ব কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। অনেকে বাড়ীতে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন আর মাস শেষে সরকারি বেতন ভাতা নিচ্ছেন।

এদিকে সদর উপজেলার সাধারণ জনগণের জান-মাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছে। দলীয় সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডে নেতাকর্মীদের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না থাকার কারণে প্রশাসনের এই চেইন অব-কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দিনমজুর, সাধারণ চাকুরিজীবী এবং সাংবাদিকরাও সন্ত্রাসীদের রাহুগ্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। দিনে দুপুরেই সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী, ডাকাতদল, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন এলাকায় নেমে পড়েছে। রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করেও যেন রেহাই নেই সাধারণ মানুষের। গভীর রাতে স্বশস্ত্র ডাকাত-দল বাড়ীতে হানা দিয়ে বাড়ীর মালিকদের হাত-পাঁ বেধেঁ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যমান মালামালসহ সর্বস্ব লুটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেই চলছে হর-হামেসা। একের পর এক সিদিল চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে চলেছে কিন্তু এসব ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের এসব নিরব ভূমিকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দিনমজুরা আতঙ্কিত হয়ে পরেছেন। এছাড়াও সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটি হোগলা গ্রামে কিছু দিন পূর্বে সেনা কর্মকর্তা মো. নূরে আলম তার বাড়ীতে দিন দুপুরে স্বশস্ত্র ডাকাত-দল হানা দিয়ে নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যমান জিনিসপত্রাদি নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানান ওই সেনা কর্মকর্তা নুরে আলম। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশের ভূমিকা ছিল নিরব। তাই প্রতিদিনই চরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চোর-ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের কবলে পরে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একাধিক ভুক্তভুগিরা সদর থানায় গিয়ে নগদ টাকা ছাড়া কোন অভিযোগ এমনকি কোন মামলা করতে না পাড়ারও অভিযোগ রয়েছে অনেকের। মামলা দুই একটা যাই হয় তাও আসামিদের ধরতে বাদিদের কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। কোন গরিব নির্যাতিত বাদি টাকা না দিলে তাদের মামলা ফাইল চাপা পড়ে থাকে। তবে সরকারি দলের প্রভাবশালিদের প্রভাবে দুই একটা মামলা রুজু হলেও আসামিদের ধরতে গেলে তাদের না ধরে তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন নিয়ে আসামিদের ছেড়ে চলে আসে।

আর আসামিরা অবারও মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বুকফুলিয়ে করতে সাহস পাচ্ছে এবং হর-হামেসাই করে যাচ্ছে। আর এসব কর্মকান্ডের নেপথ্য নায়ক হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসান আর তার সাথে রয়েছেন (এস.আই) মো. মনির হোসেন এবং তার স্ত্রী (এস.আই) রিয়া বেগম। আর তাদের অন্তরালে গডফাদার হিসেবে রয়েছে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক (এস.আই) ও কনষ্টেবল জানান, নেশাগ্রস্থ কিছু অসৎ পুলিশের যোগ সাযশে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে সখ্যতা করে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপরাধীদের আরও জঘন্য অপরাধের দিকে ধাবিত করা হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাকির হোসেন মজুমদার এবং এমপি এড. মৃণাল কান্দি দাস মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও মাদক যেন মুন্সীগঞ্জকে আলিঙ্গণ করছে।

অপরদিকে রমজান মাস ও ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনিয় খাদ্যদ্রব্য ও রমজান মাসের অতিরিক্ত খরচের কথা চিন্তা করে চরম সংকটে রয়েছে। তার উপরে রয়েছে স্ব-স্ব এলাকার সন্ত্রাসীদের তান্ডবলিলা। এ ব্যাপারে যেন প্রতিবাধ করার কেউ নেই। জিনি মুখ খুলবেন তাকেই অহেতুক কোন কারণ দেখিয়ে ওসি-(তদন্ত) মো. ইয়ারদৌস হাসানের নেতৃত্বে (এস.আই) মো. মনির হোসেন ও তার স্ত্রী (এস.আই) রিয়া বেগমকে দিয়ে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে বেধরক লাঠিপিটা করে মাদক দিয়ে কোটে চালানের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। তবে কোন কারণ বসত: পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে তবে সরকার দলীয় নেতাদের মুঠোফোনের নির্দেশে তাকে অপেক্ষাকৃত দূর্বল মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দিয়ে পুলিশের চাকুরি বলবত রাখে। ফলে ছাড়া পেয়ে ওই সন্ত্রাসীরা আবার ডাকাতি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসাসহ নানা প্রকার কর্মকান্ড গর্ভের সহিত দিব্বি চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাকির হোসেন মজুমদার। তিনি জানান সদর থানা-পুলিশের এসব কর্মকান্ডে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ চেইন অব-কমান্ড রার্থে চিন্তিত হয়ে পরেছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশের চেইন অব-কমান্ড ভাঙ্গেনি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পূর্বের তুলনায় ভালো। কিন্তু কিছু অসৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে নিছুক কিছু অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটছে। তবে যদি কোন পুলিশ এ ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তাকে উপযুক্ত আইননানুক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।

এবিনিউজ