কলেজ ছাত্রী শান্তা আত্মহত্যা করেছে! : ময়নাতদন্ত রিপোর্ট

santa0অপহরনের তিন দিনপর মুন্সীগঞ্জে কলেজ ছাত্রী আফরোজা আক্তার শান্তার (২২) লাশ এ্যাম্বুলেন্স থেকে উদ্ধার হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১০ জুন মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে শান্তার পিতা মো. আসাদ উল্লাহ। এদিকে লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে- আত্মহত্যা। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মেডিক্যাল অফিসারের মতামত কলামে- এরা হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শেখ কামরুল করিম, গাইনী কনসালটেনন্ট তৌহিদা নাজনিন ও মেডিক্যাল অফিসারের খালেকুজ্জামান। সিভিল সার্জনের কলামে কোন কিছু উল্লেখ না করে রেখা টেনে একমত পোষন করেছেন স্বাক্ষর করেছেন সিভিল সার্জন ডা. কাজী শরিফুল আলম।

সিভিল সার্জন ডা. কাজী শরিফুল আলম রবিবার সন্ধ্যায় রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই ময়নাতদন্তের জন্য তিন জন চিকিৎসকের একটি কমিটি করে দেয়া হয়। সঠিকভাবে ময়নাতদন্তের পরই এই রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু চাঞ্চল্যকর তাই ময়না তদন্তের সময় তিনি নিজে (সিভিল সার্জন) এবং বিএমএ’র সভাপতি ডা. আক্তারুজ্জামান বাপ্পি উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান। এদিকে গত ১০ জুন অপহরন করে খুনের দায়ে দন্ডবিধি ৩৬৪, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় সদর থানায় হত্যা মামলা দেিয়র করা হয়।

এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে কথিত প্রেমিক শিক্ষানবীশ আইনজীবী নাজমুল হাসানকে। এছাড়া আসামী করা হয়েছে তার পিতা মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার আব্দুস সাত্তার মোল্লা ও খালু আলী আহমদ বিপ্লবসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনকে। তবে আটককৃত এ্যাম্বুলেন্স চালক জিয়াউল ইসলামকে (৩৩) ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ্যাম্বুলেন্সে থাকা অপর আটককৃত নজমূলের খালু আলী আহমদ বিপ্লবকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। মামলাটির বাদী হয়েছেন শান্তার পিতা বিটিভির হিসাব রক্ষক মো. আসাদ উল্লাহ মাদবর।

৭ জুন শনিবার সকালে শহরের খালইস্টে কোচিং করতে এসে কথিত প্রেমিক নাজমূল অপহরণ করে সরকারি হরঙ্গা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সম্মান শ্রেণির ৩য় বর্ষের ছাত্রী শান্তাকে। অভিযোগ রয়েছে-শান্তাকে অপহরন করে সাভারে তার খালার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে শান্তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এ্যাম্বুলেন্স যোগে সোমবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ শহরের জেনারেল হাসপাতালের সামনে নিয়ে আসলে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শান্তার ২০ জুন এক চিকিৎসক পাত্রের সাথে বিয়ে নির্দিষ্ট করা ছিল। শান্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাই সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছিল। এই নিয়ে নাজমূলের পিতার সাথে শান্তার পরিবারের দফায় দফায় বৈঠক হয়। শান্তার বড় ভাই বিজিএমই’র মালিবাগ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফিল্ড সুপার ভাইজার মো. মাহফজুল্লাহ পিয়াল বলেন, “আমার বোনকে অপহরণ করে নাজমূল হত্যা করেছে, আমরা হত্যাকারীদের বিচার চাই।” যেখানে বিয়ের সানাই বাজার কথা শান্তার বাড়িতে, সেখানে এখনও চলছে বুক ফাটা আর্তনাত।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ